দুদকের ডাকে সাড়া নেই

চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

হাবীবুর রহমান | বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার নুরীর বিরুদ্ধে দুদকের ডাকে সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণের জন্য দুইবার নোটিশ দেওয়া হলেও এ দম্পতি একবারও দুদকে হাজির হননি।

দুদক জানায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ রয়েছে জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। উক্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে কমিশন কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে তাদেরকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হলে তারা গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। বর্তমানে তাদের দাখিলকৃত উক্ত সম্পদ বিবরণী যাচাইবাছাইয়ের কাজ চলছে। এ অবস্থায় তাদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা প্রয়োজন হলে গত ৭ জানুয়ারি উভয়কে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী উক্ত নোটিশ গ্রহণও করেননি। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি এ দম্পতিকে দ্বিতীয়বারের মতো নোটিশ দেওয়া হয়। এবার সেটি গ্রহণ করলেও নির্ধারিত দিনে তথা ৯ ফেব্রুয়ারি তারা দুদকে হাজির হননি।

দুদক সূত্র জানায়, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাকে চসিকের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের মাধ্যমে ২৫০০ কোটি টাকার উক্ত প্রকল্পের পিডির পদটি তিনি হাসিল করেছেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে তার পিডি হিসেবে যোগদানের অভিযোগটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নোটিশের প্রেক্ষিতে দুদক কার্যালয়ে যদি তিনি হাজির হতেন তাহলে সে বিষয়েও তার বক্তব্য গ্রহণ করা হতো।

জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটির অনুসন্ধান টিমের টিম লিডার ও দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন গতকাল আজাদীকে বলেন, দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে জসিম উদ্দিন দম্পতিকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের প্রেক্ষিতে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিলও করেন। এখন আমরা তাদের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইবাছাই করছি। এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থেই এটি প্রয়োজন। যার জন্য তাদেরকে হাজির হওয়ার জন্য দুদুবার নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা হাজির হননি। তারা হাজির না হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বক্তব্য ছাড়াই আমরা আমাদের পরবর্তী করণীয় এগিয়ে নেব।

প্রসঙ্গত, জসিম উদ্দিনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চার ধরনের তথ্য চেয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট চসিককে চিঠি দিয়েছিল দুদক। এতে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম করে ফ্ল্যাট ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলালখান বাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মানিকের স্ত্রীর ৩ মাসের কারাদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধসিআরবি দ্বিতল সড়কের পাশ থেকে ভেঙে পড়ল শতবর্ষী শিরীষগাছ