২৪ বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্য দুই আসনে তিন বিএনপি নেতা চ্যালেঞ্জ করেছেন দলীয় প্রার্থীকে। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ও চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে এ তিন ‘বিদ্রোহী’ ভোটের মাঠে থাকায় বেকায়দায় পড়ার শঙ্কা আছে দলীয় প্রার্থীদের। এক্ষেত্রে চন্দনাইশে এলডিপি এবং বাঁশখালীতে সুফল পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী।
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা তিন প্রার্থী হচ্ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী। এর মধ্যে মিজান ও রাহী চট্টগ্রাম–১৪ আসনে এবং লেয়াকত প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম–১৬ আসনে।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজাদীকে বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে দল।
চন্দনাইশে সুফল পাবে এলডিপি : লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বিএনপি এবং নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে চন্দনাইশ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন মন্ত্রী। ওই সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। এসব উন্নয়নের কারণে এলাকায় তার রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা। চন্দনাইশে এলডিপির সাংগঠনিক অবস্থাও সুবিধাজনক।
অবশ্য অতীতে এলডিপির প্রার্থী অলি আহমদের প্রতি সমর্থন ছিল বিএনপির। তার দল ছিল বিএনপি নেতৃত্বধীন জোটে। নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন তার জন্য। এবার এলডিপি বিএনপি জোটে নেই। বিএনপির সঙ্গে বেড়েছে দূরত্ব। আবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি, হয়েছেন তার ছেলে ওমর ফারুক। ফলে চন্দনাইশে এলডিপি অতীতের চেয়ে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় আছে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা। এ অবস্থায় আসনটিতে এবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদকে প্রার্থী দেয় বিএনপি। কিন্তু দুই বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী ভোটের মাঠে থাকায় এর সুফল পাবে এলডিপি। জানা গেছে, ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী। রাহী এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন।
অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী আজাদীকে বলন, তৃণমূলের অভিপ্রায়ে আমি প্রার্থী হয়েছি। দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের সাথে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে ঘটনাটা ঘটানো হয়েছে। এটা জুলাই বিপ্লবের পরিপন্থী, গণতন্ত্রের পরিপন্থী, সুষ্ঠু রাজনীতি ও জিয়ার আদর্শের পরিপন্থী।
শফিকুল ইসলাম রাহী আজাদীকে বলেন, চন্দনাইশে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থানগত অসঙ্গতির কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন করতে পারিনি। সেই প্রেক্ষাপটে শুরু থেকেই নিজের ভোট নিজের প্রতীকে প্রদানের দৃঢ় প্রত্যয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক আমার আবেগ, ভালোবাসা ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও বিতর্কিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে প্রতীক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতীকের বাহকের সততা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করবেন যে, চট্টগ্রাম–১৪ সংসদীয় আসনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বাঁশখালীতে সুফল পাবে জামায়াত : চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীকে। কিন্তু আসনটিতে স্বতন্ত প্রার্থী হয়েছেন লেয়াকত আলী। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বাঁশখালীতে শক্ত অবস্থান আছে জামায়াত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এর সুফল পাবেন জহির। কারণ এখানে বিএনপির সমর্থনের বাইরেও লেয়াকত আলীর আলাদা বলয় আছে।
জানা গেছে, লেয়াকত আলী ২০০৩ সাল থেকে তিন দফায় গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্র্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য সর্বশেষ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ২০০৯ এবং ২০১৪ সালেও বিএনপির বিদ্রোহী হিসাবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন লেয়াকত আলী। পরে ৬ মে ওই কমিটির আকার বৃদ্ধি করা হয়। তখন বাদ পড়েন লেয়াকত।












