বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবালের দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বাড়ানো হলো ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক। নারী ও পুরুষ দুই বিভাগেই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলো ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন। তামিমের নেতৃত্বে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের দিন মঙ্গলবার ছিল এই কমিটির প্রথম সভা। দ্বিতীয় সভা ছিল গতকাল দ্বিতীয় দিনে। সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সভাপতি জানান ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর খবর। ‘সত্যি বলতে, আমি নিজেই আজকে কয়েকটা জিনিস দেখে খুবই অবাক হয়েছি যে, আমাদের যে নারী ক্রিকেটাররা আছেন, যারা ঘরোয়া ম্যাচ খেলেন, আপনাদের ধারণা আছে তাদের ম্যাচ ফি কত? এটা একসময় ১ হাজার টাকা ছিল। তার পর এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। যেটা আমার কাছে মনে হয় যে কোনোভাবেই ঠিক না।’ ‘আজকে আমরা যা অনুমোদন করেছি, এটাও আমি বলব না যে খুব ভালো, কারণ সবকিছু বাড়ানোর একটা সীমা আছে। এখন থেকে ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য তারা পাবেন ১০ হাজার, একদিনের ম্যাচের জন্য ১৫ হাজার ও লঙ্গার ভার্সন, দুই দিন বা তিন দিন কিংবা চার দিনের ম্যাচ, এটার জন্য উনারা পাবেন ২০ হাজার টাকা করে। যেটা আগে হয়তো সর্বোচ্চ ৮ হাজার বা এরকম কোনো কিছু একটা ছিল।’ বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটে চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটারদের বেতন ছিল আগে মাসে ৩০ হাজার টাকা। এখন তারা পাবেন ৪০ হাজার টাকা করে। তামিম বললেন, এটা আরও বাড়ানোর ইচ্ছে থাকলেও তারা এখনই বাড়াতে পারছেন না। ‘এটাতে একটা জটিলতা ছিল কারণ, জাতীয় চুক্তিতে (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্য বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি) সর্বনিম্ন ক্যাটেগরির পারিশ্রমিক হলো মাসে ৬০ হাজার। কাজেই ঘরোয় (পারিশ্রমিক) চাইলেও বেশি বাড়াতে পারছি না এখন, একটা গ্যাপ তো রাখতে হবে ঘরোয়ার সঙ্গে জাতীয় দলের চুক্তিতে। এই কারণে আমরা যতটুকু পেরেছি বাড়ানোর, অতটুকু করতে পেরেছি।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে নারী ক্রিকেটারদের চুক্তিতে আছেন এখন ৩৫ জন ক্রিকেটার। পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের চুক্তিতে ‘এ’ ক্যাটেগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ছিল মাসে আগে ৩৫ হাজার টাকা। এখন সেটা বেড়ে এক লাফে হয়েছে ৬৫ হাজার। ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল ৩০ হাজার, সেটি হয়েছে ৫০ হাজার। ‘সি’ ক্যাটেগরিতে ২৫ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ হাজার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (জাতীয় লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) ম্যাচ ফি আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ টাকা। ‘আমার কাছে মনে হয় ইটস হাইলি আন্ডারপেইড। এত কষ্ট করে তারা সবাই ক্রিকেট খেলেন, ক্রিকেটারদের কারণেই আজকে আমাদের এই ক্রিকেট বোর্ড, এই ক্রিকেট বা সবকিছু। ন্যূনতম সম্মান বা যে কষ্ট তারা করেন, তাদেরকে ন্যূনতম জিনিসটা আমাদের দেওয়া উচিত।’ বোর্ড সভাপতি জানান, এপ্রিল মাস চললেও এখনও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি কোনো মাসেই। গত জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে তাদের নতুন বেতন কাঠামো।













