সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা সীমান্ত এলাকার চরতী ইউনিয়নের দ্বীপ চরতীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে দগ্ধ ১০ জনের মধ্যে দুই শ্রমিক মারা গেছেন। ঢাকার জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাতে শ্রমিক মো. ইদ্রিস (২৬) ও মো. ইউসুফ (৩০) মারা যান। নিহত ইদ্রিসের ছোট ভাই মো. আবু তালহা জানান, আহত ৪ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হলেও ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাননি। ঢাকায় নিয়ে আহতদের ফ্রি চিকিৎসা করানোর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আহতদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ঠিকমতো করা হয়নি। তারপরও তারা নিজেদের টাকা দিয়ে ওষুধ খরচ চালিয়েছেন। এরপরও বাঁচানো গেল না দগ্ধ ইদ্রিস ও ইউসুফকে।
শ্রমিক ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাবেক চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান ফারুকী।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দ্বীপ চরতীতে একটি গ্যাস ক্রসফিলিং গুদামে হঠাৎ বিষ্ফোরণ ঘটে। এ সময় গুদামে অবস্থানকারী মাহাবুবুল আলম (৪৭), শ্রমিক মোহাম্মদ ইউসুফ (২৬), মোহাম্মদ আকিব (১৭), মো. হারুন (২৯), মোহাম্মদ ইদ্রিস (৩০), মোহাম্মদ কফিল (২২), মোহাম্মদ রিয়াজ (১৭), মো. সৌরভ রহমান (২৫), মোহাম্মদ লিটন (২৮) ও মোহাম্মদ ছালেহ (৩৩)-সহ ১০ জন দগ্ধ হন। খবর পেয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে প্রথমে ৪ জনকে ঢাকার বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অপর ৬ জনকেও ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানা যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে ইদ্রিস ও ইউসুফ মারা যান।
জানা যায়, চন্দনাইশের বৈলতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বৈলতলী ভুইয়া বাড়ি এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে মাহাবুবুল আলমসহ একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১ বছর পূর্ব থেকে সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দ্বীপ চরতী সর্বিরচর নামক নির্জন এলাকায় গ্যাস ক্রসফিলিং কারখানা গড়ে তোলেন। একটি বড় সেমিপাকা গুদাম ঘরে গ্যাসের সরকারি বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে গ্যাস ক্রসফিলিং করে বাজারজাত করে আসছিল চক্রটি।












