তেল সংকটে কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চ চলাচল বন্ধের শঙ্কা

রাঙামাটি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ, ২০২৬ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেল সংকটের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল এখন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হলে ভোগান্তিতে পড়বেন জেলার ছয়টি উপজেলার মানুষ।

রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির তথ্য মতে, রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে জেলার ছয়টি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলায় নৌপথে প্রায় ৩০৩৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। এসব লঞ্চে দৈনিক প্রায় ১০০০১২০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। ঈদের আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে চাহিদা অনুযায়ী পাম্প থেকে জ্বালানি তেল না পাওয়ায় এখন লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন লঞ্চ মালিকরা।

রাঙামাটির রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাটের লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে বলেন, আমরা খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছি। আমাদের একদুই দিনের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। তেল না পেলে তো লঞ্চ চলানো খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যাবে। লঞ্চ চলাচল করতে না পারলে যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়বে। বরকল উপজেলার বাসিন্দা সুপায়ন চাকমা বলেন, আমাদের উপজেলা থেকে জেলা সদরে যেতে হলে নৌপথে লঞ্চ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। স্পিড বোটে করেও যাওয়া যায়। তবে স্পিডবোটে লঞ্চের চেয়ে ভাড়া অনেক বেশি দিতে হয়। এখন তেলের কারণে যদি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে তখন তো আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। তখন দুই তিন গুণে বাড়তি ভাড়া দিয়ে ছোট নৌ যান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হবে।

জুরাছড়ি উপজেলার বাসিন্দা সুরেশ চাকমা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে এমনিতে নৌ পথে চলাচল করতে অসুবিধা হয়। এখন আবার তেল সংকটে যদি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী ও জরুরি অফিসের কাজ গুলো জেলা শহরের গিয়ে করতে কষ্ট হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৩০৩৫টি লঞ্চ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করে। এসব লঞ্চগুলোতে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। ঈদের আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে তেল আমরা পাচ্ছি না। আমাদের যে চাহিদা সে অনুযায়ী পাম্প থেকে তেল পাচ্ছি না। আমরা রিজার্ভ বাজারের মেসার্স অনুকূল এন্টারপ্রাইজ থেকে তেল সংগ্রহ করতাম এখন তারা আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে তেল সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। এখন এ অবস্থায় আমাদের আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত লঞ্চ চালানোর মতো তেল রয়েছে। এর পর থেকে যদি তেল না পাই তাহলে বুধবার থেকে আমাদের লঞ্চগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন দিয়েছি। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম উপপরিচালকের নিকটও অনুলিপি প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, আমরা বিষয়টি দেখতেছি। লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এটা কীভাবে সমাধান করা যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবর্ষবরণে মঙ্গল বাদ দিয়ে এবারও আনন্দ শোভাযাত্রা
পরবর্তী নিবন্ধ৪৪ কোটি টাকা ফেরানো গেলেও গ্রাহকদের দেওয়া ‘কঠিন হবে’