মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাউন্সিলরের স্বাক্ষর জাল করে সনদ ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবার ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ইস্যু করা হয় দুটি ওয়ারিশ সনদপত্র। সনদপত্র দুটির ফটোকপি নিয়ে মো. আবুল হাশেম নামে এক ব্যক্তি কাউন্সিলরের নিকট সত্যায়িত করতে আসলে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ওয়ার্ড সচিব আবুল মকসুদ বাদী হয়ে বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং ৭৩২) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, জাল ওয়ারিশ সনদপত্র দুটিতে ইস্যুর তারিখ দেখানো হয় ১৪ নভেম্বর। এর একটি ৩৮ নং ওয়ার্ডের গণি কন্ট্রাক্টর বাড়ির সফর মুল্লুকের ছেলে মো. জনাব আলীর ওয়ারিশগণের নামে। অপরটি মো. জনাব আলীর সন্তান মো. শরীফের ওয়ারিশগণের নামে। সত্যায়িত করতে নিয়ে আসা আবুল হাশেম মো. শরীফের ছেলে। জিডিতে বলা হয়, ১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ওয়ারিশ সনদগুলো সত্যায়িত করার জন্য কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে আনা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, কাউন্সিলর অফিসের ভলিউমের সাথে নিয়ে আসা ওয়ারিশ সনদের মিল নেই।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আজাদীকে বলেন, হাশেম সত্যায়িত করতে নিয়ে এসেছিল। অথচ গত নভেম্বর মাসে আমরা কোনো ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করেছে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেখানে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের জন্য এ ধরনের জাল সনদ ইস্যু করা হয়েছে।
ওয়ার্ড সচিব আবুল মকসুদ আজদীকে বলেন, সত্যায়িত করার জন্য যেটা নিয়ে আসে সেটা ফটোকপি ছিল। মূল কপি নিয়ে আসলে সরাসরি মামলা করতাম।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্বাক্ষর জাল করে সনদ ইস্যুর অভিযোগে বায়েজিদ এলাকা থেকে জিয়াউদ্দিন (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আগের দিন ২০ সেপ্টেম্বর ১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইসমাইলের স্বাক্ষর করে সনদ ইস্যুর ঘটনায় জড়িত মো. খালেক (৩৬) নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।
এছাড়া গত জুনে ১৬ নং চকবাজার, ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের নামে ১৮টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছিল। কীভাবে সনদগুলো ইস্যু হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেউই জানেন না। এ ঘটনায় ৯ জুন চকবাজার থানায় একটি ও পতেঙ্গা থানায় দুটি মামলা করেন ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারীরা। বর্তমানে মামলাগুলো তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।