তিন পার্বত্য জেলায় হচ্ছে ১১শ কিমি সীমান্ত সড়ক

প্রথম পর্যায়ে ১৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১৭ কিমির নির্মাণ কাজ চলছে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | বুধবার , ২০ এপ্রিল, ২০২২ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নিরাপদ করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১১শ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শুরু করেছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান বন্ধসহ পর্যটন শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তের ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। যেখানে চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে অবাধে চলাফেরা করছে। মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সীমান্তের কিছু এলাকায় বিজিবির টহল বাড়িয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য সড়ক নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সওজ সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ৫৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকাটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত না থাকার সুযোগে চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঘটনা ঘটাচ্ছে দুস্কৃতকারীরা। তাই সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে বিস্তীর্ণ বনজ সম্পদ রক্ষা ও পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য ১১শ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নেয় সরকার।

এদিকে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে ১৬৯৯ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সীমান্ত সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প ১ম পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি, বরকল ও রাজস্থলী উপজেলা; খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইছড়ি; বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে ঠ্যাগামুখ-লইতংপাড়া-থানচি-দুমদুমিয়া-রাজস্থলী পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার, সাজেক-দোকানঘাট-ঠ্যাগামুখ পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার, সাজেক-শিলদা-বেতলিং পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার এবং উখিয়া-আশারতলী-ফুলতলী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা সুরক্ষার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে সীমান্ত সড়ক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্পে ১১শ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। তিন পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সীমান্ত সড়কটি নির্মিত হলে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের আরো বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওহাইদ বলেন, সীমান্ত সড়ক প্রকল্পটি চ্যালেঞ্জিং। পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ সুবিধা নেই। অনেক এলাকা এখনও অরক্ষিত। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে পুরো সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত হবে। এতে সীমান্তের অনেক এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তিনি বলেন, সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনেক জায়গা দুর্গম। অনেক জায়গায় যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক বাধা মোকাবেলা করতে হয়েছে। যে কারণে প্রকল্পের প্রথম দিকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভাংতির কথা বলে জাল টাকা গছিয়ে দেয়া হল বৃদ্ধকে
পরবর্তী নিবন্ধপ্রদীপ-চুমকির বিরুদ্ধে আরও ৫ জনের সাক্ষ্য