তিন নম্বর সংকেতের মধ্যে অসুস্থ মাকে নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি

সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌরুটে ভোগান্তি কমেনি

ওমর ফয়সাল, সন্দ্বীপ | সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

শনিবার সকাল ৯টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। এ কারণে সন্দ্বীপচট্টগ্রাম নৌরুটে বিআইডব্লিউটিসির সি ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল দুপুর সড়ে ১২টার দিকে সন্দ্বীপ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন ও জাহাঙ্গীর কবির অসুস্থ মাকে নিয়ে পড়েন বিপাকে। তিন নম্বর সতর্কতা সংকেতের মধ্যে পাড়ি দিতে হবে উত্তাল সাগর। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার সময় শ্বাসকষ্টে ভোগা তাদের মাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে জানান রোগীকে দ্রুত চট্টগ্রাম নেওয়ার জন্য।

মাকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তারা দুই ভাই গুপ্তছড়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল থেকে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরের কথা মাথায় রেখে মা রওশন আরা বেগম ও মেজো ভাই জাহাঙ্গীর কবির শামীমসহ পরিবারের ৫ জনকে স্পিডবোটে উঠিয়ে দেন বলে জানান রোগীর ছোট ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।

আনোয়ার হোসেন আজাদীকে জানান, তার মা রওশন আরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার বিকালে তার মা খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থাকা অবস্থায় রোববার সকাল ৭টার সময় মায়ের অসুস্থতার খবর জানতে পারেন তারা।

গতকার দুপুরে ধারণ করা রোগীসহ স্পিডবোট যাত্রার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্দ্বীপভিত্তিক একাধিক ফেইসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

আমরা সন্দ্বীপবাসীর সমন্বয়ক খাদেমুল ইসলাম জানান, লালবোট ও স্পিডবোটে করে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগীদের সাগর পাড়ি দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত ও সাগর উত্তাল থাকলে এভাবে রোগী পারাপার করতে হয়। আমাদের এখানে একটি সি অ্যাম্বুলেন্স কেওড়া বনে পড়ে আছে। তিন নম্বর সতর্কতা সংকেতে চলাচল করতে পারে এ রকম একটা সি অ্যাম্বুলেন্স সন্দ্বীপের রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগুঁড়া দুধের প্যাকেটের মেয়াদ বাড়ল কারসাজিতে
পরবর্তী নিবন্ধআ. লীগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ