ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্প গত বুধবার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, আপনার ঐতিহাসিক জয়ে আপনাকে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনার সাফল্য কামনা করছি। আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে, যাতে এ অঞ্চলের শক্তিশালী ও সার্বভৌম জাতিগুলো সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
সমপ্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আপনার দায়িত্ব শুরুর এই সময়ে আমি আশা করি, উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকের জন্য উপকারী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কে যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তা বজায় রাখতে আপনি আমাদের সাহায্য করবেন।
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার বিষয়েও ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, এর মাধ্যমে আপনাদের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চমানের সরঞ্জাম পাবে, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভালো! যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায়’ মজবুত করার ক্ষেত্রে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিডি ও বাংলানিউজের।
অন্যদিকে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন এ তথ্য জানায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে কিয়ার স্টারমার উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তার নেতৃত্বে এ সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। ভাগাভাগি মূল্যবোধ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের ভিত্তিতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। কিয়ার স্টারমার আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাজ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায়। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আতিথেয়তায় বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিতে দুই দেশের অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।












