বিসিবি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে অনেক অনিয়ম ও দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে। সেসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে এনএসসি। এই কমিটি বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটিও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থাটি। যেটির প্রধান করা হয়েছে তামিম ইকবালকে। তামিমসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জন এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। অপর চার জন হলেন, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, শিল্পপতি সালমান ইস্পাহানি, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সন্তান ইসরাফিল খসরু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংস্থাটির পরিচালক–ক্রীড়া (উপ–সচিব) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান জানান, এনএসসি নীতিমালা ২০১৮–এর ২১ ধারা অনুযায়ী আমিনুলের কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তটি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসিকে জানানো হয়েছে। এই অ্যাডহক কমিটি তিন মাসের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করবে। পাশাপাশি সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম মসৃণভাবে চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও এই কমিটির। ৩৭ বছর বয়সী তামিম বিসিবির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুমোদনে গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেন গত রোববার। এর দুই দিন পর ব্যবস্থা নিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ২৭ মিনিটের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনএসসির পরিচালক।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি, যেখানে বিসিবির নির্বাচনে বিস্তর অনিয়মের ব্যাপারগুলি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিম মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের বেশ কিছু নজির উঠে এসেছে সেই কমিটির পর্দবেক্ষণে। এছাড়াও সেই নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি হওয়া আমিনুলেরও দায়িত্বের বাইরে প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অনেক ঘটনার উল্লেখ আছে কমিটির প্রতিবেদনে। বিসিবি নির্বাচনের তিনটি ক্যাটাগরি থেকেই প্রচুর অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি এবং সেসবের অনেকগুলোর পরিষ্কার উদাহরণও উঠে এসেছে তাদের পর্যবেক্ষণে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে এই কমিটি। অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ইতিহাসের সফলতম একজন ওপেনার। ২০২৪ সালের অগাস্টে দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পথ ধরে সেই সময়ের সভাপতি নাজমুল হাসানের বিদায়ের পর এই নিয়ে টানা তিনজন সাবেক অধিনায়ক বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব পেলেন। তামিমের কমিটিতে আছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলি খানও। এছাড়াও আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ইব্রাহিম আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, যিনি বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
ক্রিকেট সংগঠকদের মধ্যে এই কমিটিতে আছেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি ও তানজিল চৌধুরী। নাজমুল হাসান পাপন বিসিবি সভাপতি থাকার সময় দুই দফায় বোর্ড পরিচালক ছিলেন ফাহিম সিনহা। গত বিসিবি নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে চেয়ে পরে সরে যান। রফিকুল ইসলাম বাবু বিসিবির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরি ছিলেন নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে প্রথম দফার বোর্ডে। তার প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট উৎসব স্কুল ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক। সালমান ইস্পাহানি অনেক বছর ধরেই দেশের ক্রিকেটের শীর্ষ পৃষ্ঠপোষকদের একজন। অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা থেকেই শুরু হয়ে গেছে তাদের দায়িত্ব। কমিটির প্রথম সভা গত সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটি: তামিম ইকবাল (কমিটির প্রধান), ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, রাশনা ইমাম।














