ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সকালে নগরীর ডিসি হিল প্রাঙ্গণে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরে ডিসি হিলের আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এতে অতিথিরাও অংশ নেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে নগরীর সার্কিট হাউস থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়, যা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন ও সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে, তাই আমরা যদি এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি, তাহলে আমরা সবাই ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাব।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল– এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিশেষভাবে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় যাতে পরিষ্কার পানিতে মশার লার্ভা জন্মাতে না পারে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ডেঙ্গুকে মহামারী রোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন কেউ আক্রান্ত হয়, তার প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায় এবং সে ঝুঁকিতে পড়ে। আমরা চাই কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ুক। এজন্য আগে থেকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সচেতন হই এবং আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখি, বিশেষ করে যেখানে ডেঙ্গু মশা বিস্তার করে, সেই সব এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, তবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারব।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়নি সত্ত্বেও ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং গত মাসে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা চাই না কোনো মানুষের প্রাণহানি ঘটুক। এজন্য প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের যেকোনো ধরনের রোগ থেকে শুরু করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা মাসব্যাপী চলবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মানুষকে সচেতন করা এবং বসবাসের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখা। চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে আমরা একটি নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম গড়ে তুলব। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করা হবে এবং জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।












