ডেঙ্গু নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, সঠিক তথ্য তুলে ধরুন : মেয়র

‘মশারি টাঙ্গিয়ে ডেঙ্গু নিয়ে মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে’

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

প্রেস ক্লাবের সামনে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে মশারি টাঙ্গিয়ে ডেঙ্গু নিয়ে মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় মিথ্যে তথ্য দিলে সঠিক ‘অথরাইজড পার্সন’ দায়মুক্তি পাচ্ছেন মন্তব্য করে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তথ্যের বিভ্রান্তির কারণে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি গতকাল রোববার নগরের একটি হোটেলে ‘ডিভিশনাল লেভেল ট্রেনিং অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম শাখার সম্পাদক অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ফিল্ড অফিসের প্রধান মাধুরী ব্যানার্জি।

ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আজকের দিন পর্যন্ত ১০ জন এবং উপজেলাতে মারা গেছে ১৩ জন। শহরের বাইরে সর্বোচ্চ ৫ জন মারা গেছেন সীতাকুণ্ডে। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী সীতাকুণ্ডে। এই তথ্যগুলো যারা মশারি টাঙ্গিয়েছে তারা জানেন না। তারা সেখানে বক্তব্য রাখার জন্য এসেছে? তারা কেন শুধু তাদের চেহারা দেখানোর জন্য এগুলো করছে? নাকি সঠিক তথ্য তাদের দরকার? তাদের আমি বলব, চেহারা না দেখিয়ে তারা সঠিক তথ্য জাতির কাছে তুলে ধরুক। তাহলেই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব এবং ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।

ডা. শাহাদাত বলেন, যারা মশারি টাঙ্গিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল– সীতাকুণ্ড তো মেয়রের এলাকা নয়। সীতাকুণ্ড হচ্ছে জেলা প্রশাসকের এলাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এলাকা। এরপরও চট্টগ্রাম সিটি থেকে সেখানে গিয়ে মশা মারার জন্য লার্ভিসাইড সলিউশন দিয়েছি।

তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করার কারণে সঠিক যারা অথরাইজড পার্সন আছে, তারা কিন্তু দায়মুক্তির দিকে চলে যাচ্ছে–এটা আমি বলতে চাচ্ছি আর কিচ্ছু না। যদি সঠিকভাবে এই কথাগুলো বলতে পারত, তাহলে যাদের দায়িত্ব আছে তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করত। কিন্তু তারা সেখানে দায়িত্ব পালন না করে সিটির মধ্যে ঘুরাঘুরি করছে। দেখবেন, যার দায়িত্ব সে পালন করছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে দায়িত্ব পালন না করে অন্য জায়গায় করছে। জেলা প্রশাসক ওইখানে দায়িত্ব পালন না করে সিটিতে ঘুরাঘুরি করছে। এই যে দায়মুক্তির কালচার, এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেখবেন ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমে গেছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে ৫ নারী ফুটপাতে মশারির ভেতর বসে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ‘র্ব্যথতার’ প্রতিবাদে একটি কর্মসূচি পালন করে। ৫ নারীর মধ্যে ছিলেন কর্মসূচির আয়োজক ‘এম এ হায়দার চৌধুরী ফোরাম ফর হিউম্যানিটি’–এর চেয়ারম্যান হাশমিরা হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাদিয়া আফরিন ও সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক তানিয়া আমিন।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠানে মেয়র চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার রোগীরা নগরীর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেই তাকে চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। নগরী ও উপজেলাভিত্তিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে জনগণকে সচেতন করতে হবে। কোন এলাকায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদৈনিক আজাদীর সাবেক সিনিয়র সহ সম্পাদক সুলতান আহমদ আশরাফীর ইন্তেকাল
পরবর্তী নিবন্ধজনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী