একদিকে তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট। এই দুই সংকটের মাঝেও রাঙ্গুনিয়ায় আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে ‘সোলার সেচ প্ল্যান্ট’। সৌরবিদ্যুৎ চালিত এই পাম্পের কল্যাণে ডিজেল ও বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের তুলনায় অর্ধেক খরচে পানি পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে খরচ কমার পাশাপাশি দুই ফসলি জমিগুলো এখন তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমারের দেওয়া তথ্যমতে, সৌর সেচের মাধ্যমে শতাংশপ্রতি জমিতে পানি দিতে খরচ হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। যেখানে বিদ্যুৎচালিত মোটরে খরচ হয় ৩৫ টাকা এবং ডিজেলচালিত পাম্পে খরচ পড়ে ৪০ টাকা। অর্থাৎ, প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে প্রায় অর্ধেক খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। আগে প্রতি কানি জমিতে সেচ দিতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও এখন তা নেমে এসেছে অর্ধেকে।
বিএডিসি’র অধীনে বেতাগী ও পারুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই সৌর সেচ পাম্প চালু ছিল। তবে এবার শুষ্ক মৌসুমের চাহিদা মেটাতে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় আরও তিনটি বড় সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে লালানগর ইউনিয়নের চাঁদনগর ও গজালিয়ায় দুটি এবং মরিয়মনগর ইউনিয়নের গুমাইবিলের কাটাখালী এলাকায় একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। সরেজমিনে গুমাইবিলে গিয়ে দেখা যায়, রোদের আলোয় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে চলছে শক্তিশালী পাম্প। খাল থেকে পানি তুলে নালার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দূর–দূরান্তের ফসলি মাঠে। কৃষক মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, সোলার প্রকল্পের কারণে আমি ১০ কানি জমিতে আবাদ করেছি। যখন ইচ্ছে পানি পাচ্ছি। আগে বছরে দুইবার ফসল পেতাম, এখন তিন মৌসুমে ফসল উৎপাদন করছি।
আরেক কৃষক মোকাররম মিয়া জানান, আগে দূর থেকে মেশিন বয়ে এনে সেচ দেওয়া ছিল চরম ভোগান্তির। এখন সেই কষ্ট দূর হয়েছে। সোলার প্যানেলের কল্যাণে আমন ও বোরোর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি জমিতে সবজি ও সরিষা চাষ করতে পারছেন।
কৃষক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বর্তমান পাম্পটির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কানি জমিতে তিন মৌসুমে চাষাবাদ হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে পাকা সেচ নালা স্থাপন করা গেলে এর আওতা বাড়িয়ে ১০০ কানি জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, এটি সরকারের একটি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্প। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমছে। কৃষকদের দল গঠন করে এই প্ল্যান্টগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
লোডশেডিং ও তেল সংকটের এই সময়ে রাঙ্গুনিয়ার সৌর সেচ মডেল সারা দেশের কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আরও বেশি আকারে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নালা স্থাপন করে দেয়া গেলে এর সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।














