ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক নাছের গ্রেপ্তার, ৬ দিনের রিমান্ডে

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেননি নাছের : আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ

| মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ, ২০২৬ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

জুলাই আন্দোলনের এক হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে ছয় দিনের রিমান্ডে পেয়েছে ডিবি পুলিশ। ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ পিয়াস গতকাল সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। এর আগে রোববার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। খবর বিডিনিউজের। রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী এ আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০৭০০ নেতাকর্মী। এসময় শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ডিজিএফআই’য়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকেও এ মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাকর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদের দেওয়া তথ্যে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। এর মধ্যে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ দেশের অনেক রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করা হয় এবং বন্দি অবস্থায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দি অবস্থায় বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপরও সে সময় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ‘চিকিৎসা নিতে দেননি’ নাছের: এদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক, সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে এক মামলার রিমান্ড শুনানিতে নতুন অভিযোগ তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেছেন, বরখাস্ত ওই সেনা কর্মকর্তা ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ‘চিকিৎসা নিতে দেননি’।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময় দেলোয়ার হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আফজাল নাছের ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। মইন উদ্দিনফখরুদ্দীনের আমলে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীদের অত্যাচার করেছিল। বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআই নির্যাতন করেছিল। সেই টিমের সদস্য ছিলেন আফজাল নাছের। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, তিনি (নাছের) রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন ও নির্যাতন করেছেন। আব্দুল আউয়াল মিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মোসাদ্দেক আলী ফালুকে মিথ্যাচার করে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই টিমে ছিলেন আফজাল নাছের।

অত্যাচার করেও তার জিঘাংসা শেষ হয়নি। খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা যেভাবে মামলার পর মামলা দিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল, মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি। নিরূপায় হয়ে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি (নাছের) খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে দেননি। (সেনাবাহিনী থেকে) বরখাস্ত হয়েও তিনি নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তার সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলায় আসামির নাম ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। বিগত দিনে যদি তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ তাকে পুরস্কৃত করত। কিন্তু তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রুটিরুজির জন্য ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি করেন। সাত দিনের রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত মো. আফজাল নাছেরকে ৬ দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

দেলোয়ার হত্যা মামলার নথিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০৭০০ নেতাকর্মী। এসময় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের ইন্তেকাল