ডায়াবেটিস আক্রান্ত অর্ধেক রোগীর লক্ষণ থাকে না

সচেতন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের আজ ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস

জাহেদুল কবির | শুক্রবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস আজ। আমাদের দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের অর্ধেক মানুষ জানেই না তারা এ রোগে আক্রান্ত। প্রায় সময় অন্য কোনো রোগের পরীক্ষানিরীক্ষা করাতে গিয়ে রোগটি ধরা পড়ে। বিশেষ করে, শতকরা ৫০ ভাগের বেশি রোগীরই কোন লক্ষণ থাকে না, তাই তারা প্রথম দিকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ডায়াবেটিস বংশগত কারণে ও পরিবেশের নানা প্রভাবে হয়। কখনো কখনো অন্যান্য রোগের ফলেও ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। সব বয়সীদের এ রোগ হতে পারে। ডায়াবেটিস একবার হলে আর সারে না। তবে একে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বলা যায়এটি আজীবনের রোগ। ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা, দুর্বল লাগা, ঘোর ঘোর ভাব আসা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, সময়মতো খাওয়াদাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া, মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া, কোনো কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া, শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলে দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা, চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব, বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা এবং চোখে কম দেখতে শুরু করাডায়াবেটিস রোগের অন্যতম লক্ষণ। ডায়াবেটিসের কারণে এমনকি বন্ধ্যাত্বও হতে পারে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল ও মোটা শস্যদানা জাতীয় খাবার খেতে হবে। এতে টাইপ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খেতে হবে। সুষম খাবার টাইপ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে। তবে বর্তমানে হাইক্যালরি ও অপুষ্টিকর সস্তা খাবার বিশেষত ফাস্টফুড গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে টাইপ২ ডায়াবেটিস। এছাড়া স্থূলতা, কায়িক পরিশ্রম না করাও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। তবে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এদিকে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে বর্তমানে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুইজন সহকারী অধ্যাপক এবং একজন রেজিস্ট্রার ও একজন সহকারী রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন। এছাড়া ওয়ার্ডে নেই কোনো ইনডোর ও আউটডোর মেডিকেল অফিসার। আউটডোর মেডিকেল অফিসার নাই তাই রোগীদের সেবা দিতে ওয়ার্ডের চিকিৎকসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন দেখতে হয় চিকিৎসকদের। এছাড়া সপ্তাহে দুইদিন দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আউটডোরে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আউটডোরে রোগী দেখার দায়িত্ব কেবল আউটডোর মেডিকেল অফিসারের। এছাড়া বিভাগে আগত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং অনারারি চিকিৎসক দিয়ে ওয়ার্ড চালাতে হচ্ছে। এছাড়া ওয়ার্ডে মোট শয্যা আছে ১৬টি। এর মধ্যে ৮টি পুরুষ এবং ৮টি মহিলার জন্য সংরক্ষিত। তবে বর্তমানে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য হরমোন রোগ বাড়ার কারণে নির্ধারিত শয্যার বাইরে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। শয্যার অতিরিক্ত রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে নেই কোনো এইচডিইউ বেড। জটিল রোগীদের তাই বাধ্য হয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও ফলোআপ করতেও ডায়াবেটিস চিকিৎসকদের মেডিসিন ওয়ার্ডে অনকলে গিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। তাই ওয়ার্ডে অন্তত চারটি এইচডিইউ বেড স্থাপনসহ মোট শয্যা ১৬ থেকে ৩২ এ উন্নীত করা প্রয়োজন।

চমেক হাসপাতালে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারহানা আক্তার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোনো সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার নামে অনেক অপচিকিৎসা চলছে। এখানে কিটো ডায়েট তত্ত্ব সামনে এনে বলা হচ্ছেওষুধ না খেয়েই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে অনেক চটকদার বিজ্ঞাপনও হচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছেএ তালিকায় স্বীকৃত মেডিকেল থেকে এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তারও কিটো ডায়েট তত্ত্ব নিয়ে ‘ফেসবুকইউটিউবে ভিউ’ ব্যবসা করছেন। সাধারণ মানুষ তাদের সেই তত্ত্ব গ্রহণ করছে। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কম শর্করা খেলে হৃদরোগস্ট্রোক এমনকি ক্যান্সারের ঝুকিও বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসের রোগের চিকিৎসায় অনেকে মনে করেনএকবার ইনসুলিন দিলে সারা জীবন দিতে হবে। আসলে প্রথম শনাক্তের পর, ইনসুলিন দেয়ার পরে অবস্থার উন্নতি হলে আবার মুখের ওষুধে ফিরিয়ে আনা যায়। সাধারণ মানুষকে এসব বিভ্রান্তি থেকে সরে আসতে হবে। কোনো ধরণের অপপ্রচারে প্রলুব্ধ হয়ে অপচিকিৎসা নেয়া যাবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধপ্রবাসী বর হাতছাড়া না করতে ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা