নিজেদের মালিকানাধীন একটি পার্ককে ২০ বছরের জন্য ‘লিজ’ দিয়ে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ফতেয়াবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘ঠান্ডাছড়ি রিসোর্ট’ নামে পরিচিত এ পার্কটি। চসিকের দাবি, যারা লিজ নিবেন তারা জনস্বার্থে রিসোর্টটির উন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করবেন। এতে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।
জানা গেছে, কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘উন্নয়ন’র নামে ঠাণ্ডাছড়ি রিসোর্ট বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ওই সময় দরপত্রও আহ্বান করে চসিক। তবে পরে সমালোচনার মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে সংস্থাটি। এদিকে নতুন করে পার্কটি লিজ দেয়ার জন্য গত ১৩ আগস্ট দরপত্র আহবান করে চসিকের রাজস্ব বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন থাকলেও কেউ অংশ নেয়নি। তবে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চসিকের আহূত দরপত্রে বলা হয়, ‘ঠান্ডাছড়ি রিসোর্টটি উন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে তৈরিপূর্বক লিজ গ্রহণে ইচ্ছুক অভিজ্ঞ পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এককালীন জামানত গ্রহণ ও মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ২০ বছর মেয়াদের জন্য লীজ প্রদান করা হবে।’ লিজ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাসমূহকে তাদের সুনির্দিষ্ট লীজ প্রস্তাব (পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রোফাইল ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণকসহ আর্থিক ও কারিগরী প্রস্তাব দ্বি–খাম বিশিষ্ট) আহ্বান করা করা হয়। দরপত্রের অনুকূলে জামানত হিসেবে ৩ কোটি টাকার পে–অর্ডার দাখিল করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামে আধুনিক সুযোগ–সুবিধা সমৃদ্ধ কোনো পার্ক গড়ে ওঠেনি। গাজীপুরে কিন্তু রয়েছে। ঠাণ্ডাছড়ি রির্সোটকে গাজীপুরের মত করে সাজিয়ে নান্দনিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে মানুষের বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। আমাদের পরিকল্পনা এখানে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন পার্ক গড়া। জনস্বার্থেই এ পার্ক গড়া হবে। যারা পার্কটি গ্রহণ করবে তারা সেখানে বিনিয়োগ করবে। এখানে কর্পোরেশন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বাড়বে। মেয়র বলেন, দরপত্র আহ্বান করা মানেই কাউকে দিয়ে দেয়া না। তাদের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে। যাদের ড্রয়িং ও ডিজাইন নকশাসহ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে তাদের পার্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেয়া হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ঠাণ্ডাছড়ি রিসোর্টের পুরো এলাকা প্রায় ৩২ একর। এর মধ্যে সাড়ে ৯ একর জায়গায় পার্ক গড়ে তুলেন চসিকের তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে পার্কটি পরিচালনা করে আসছে চসিকের রাজস্ব শাখা। ছোটবড় কয়েকটি পাহাড় আছে সেখানে। আছে কৃত্রিম হ্রদও। একসময় এ হ্রদে চলাচল করতো নৌযান। সেগুলো পরে পরিত্যক্ত হয়।
জানা গেছে, পার্কের হ্রদে বড়শী দিয়ে মাছ শিকারকারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ১০০ জনের পিকনিক আয়োজনের জন্য ৫ হাজার টাকা ফি আদায় করে চসিক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা এমনিতে পার্কটিতে ঘুরতে যান। এজন্য কোনো ফি পরিশোধ করতে হয় না।