পোশাকের দোকানে পোশাক পরিবর্তনের ট্রায়াল রুমগুলো আমাদের জন্য একান্ত ব্যক্তিগত জায়গা। কিন্তু এই সুরক্ষিত জায়গাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়াবহ বিপদ। সমপ্রতি বিভিন্ন ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলছে। অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু চক্র ট্রায়াল রুমের আয়না, পোশাক ঝোলানোর হুক, লাইটের হোল্ডার এমনকি দেওয়ালের ছোট ছিদ্রেও অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্যামেরা লুকিয়ে রাখছে। এর মাধ্যমে ধারণ করা হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও, যা পরবর্তীতে সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধকে ত্বরান্বিত করছে। এই গোপন ফাঁদ থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ট্রায়াল রুমে প্রবেশের পর আয়নাটি “টু–ওয়ে মিরর”বা দ্বিমুখী আয়না কি না তা নিশ্চিত হতে “ফিঙার টেস্ট”বা আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। আয়নায় আঙুল ছোঁয়ালে যদি প্রকৃত আঙুল ও এর প্রতিবিম্বের মাঝে সামান্য ফাঁক থাকে, তবে আয়নাটি নিরাপদ। কিন্তু প্রকৃত আঙুল ও এর প্রতিবিম্ব যদি সরাসরি মিলে যায়, তবে বুঝতে হবে আয়নাটি নিরাপদ নয়। এ ধরনের আয়না দিয়ে কেউ অনায়াসেই আপনার ওপর নজর রাখতে পারে কিংবা আড়ালে ক্যামেরা তাক করে রাখতে পারে। এছাড়া রুমের আলো নিভিয়ে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে চারপাশ পরীক্ষা করলে গোপন ক্যামেরার ইনফ্রারেড সিগন্যাল শনাক্ত করা সম্ভব। তাই আপনার সচেতনতাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। কোনো জায়গায় অস্বাভাবিক কিছু দেখলে বা সন্দেহ হলে সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে জানান এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিন।
আশিক বিন আলম সোহাগ
শিক্ষার্থী,
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।













