ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

| শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিতর্কিত সর্বজনীন বা বৈশ্বিক শুল্ক নীতি বাতিল ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে আদালত জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা তার এখতিয়ারের বাইরে। আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারার মতো কোনও ক্ষমতা দেয় না। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬৩ ভোটে এই রায় দেয়। খবর বিডিনিউজের।

প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক কর্মসূচির জন্য এই রায় এক ধাক্কা। ২০২৫ সালের শুরুতে ক্ষমতা গ্রহণের পরই ট্রাম্প চীন, কানাডা ও মেক্সিকোসহ প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করেছিলেন। ট্রাম্প এই শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে বর্ণনা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে, প্রেসিডেন্টকে নয়। জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহার্য আইনকে কাজে লাগিয়ে শুল্ক বসানোর এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। এভাবে শুল্ক আরোপ করতে গেলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘স্পষ্ট অনুমোদনের’ প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু তিনি তা পারেননি। শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প যে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিলেন, আদালতের রায়ের ফলে এখন ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে সেই অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি রাজ্য, যার বেশির ভাগই ডেমোক্র্যাট শাসিত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই পদক্ষেপকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিরোধী একটি সংগঠন এরই মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে। সংগঠনের পরিচালক ড্যান অ্যান্টনি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়কে ‘আমেরিকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল জয়’ বলে অভিহিত করেছেন, যারা বাড়তি শুল্কের বোঝার ভার বহন করে আসছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একটি আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন অন্য কোনও আইনের মাধ্যমে নতুন করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হারলে ট্রাম্পের বিকল্প পথ কী হবে, তা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন বলেই জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহাসড়কের চকরিয়া ট্রাকের ধাক্কায় বাইক আরোহী বাবা-ছেলে নিহত
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে মাতৃভাষায় পাঠদান ৯ বছরেও সফল হয়নি