হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা (টমটম) চালক মো. আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যা মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকালে হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার তানভির জানান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ইমরান হোসেন আপন (২৩), মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)। এর আগে গত ৭ অক্টোবর মো. রাসেলকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ১ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী থানাধীন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের যোগীরহাট–খন্দকিয়া বাজারের রাস্তার পাশে বিলের পানিতে টমটমচালক তুষারের লাশ পাওয়া যায়। তার গলায় রশি ও গামছা পেঁচানো ছিল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ভিকটিমের বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে শুরু করে হাটহাজারী থানা এলাকার দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিকটিম ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করে। হত্যাকারীরা বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁও সাদ–মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে ভিকটিমের টমটমটি ভাড়া নেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে পিছন দিক থেকে ভিকটিমের গলায় প্রথমে রশি ও পরবর্তীতে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি বিলে ফেলে দেয়। এরপর ভিকটিমের টমটম ও মোবাইল নিয়ে আপন ঠাণ্ডাছড়ি গিয়ে টমটমটি আসামি বাবলুর জিম্মায় বিক্রির জন্য দেয়। গাড়িটি ঠাণ্ডাছড়ির একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে রেখে হত্যা ও টমটম কেনাবেচার সাথে জড়িত সকলে বড়দিঘির পাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খায়। গত ৭ অক্টোবর ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইলের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে মো. রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপজেলার চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী ইমরান হোসেন আপনসহ কেনাবেচায় জড়িত পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন আপন জানায়–গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার এক সহযোগীসহ হত্যা ও ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ২৯ সেপ্টেম্বর টমটমটি ভাড়া নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিম তুষারকে হত্যা করে গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে অপর আসামিদের নিকট বিক্রির উদ্দেশ্যে জিম্মা দেয়। টমটমটি কেনাবেচার সাথে জড়িত আসামিরাও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি স্বীকার করে। পরবর্তীতে পুলিশ গাড়িটির ৩টি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ আসামি আক্তার হোসেনের ওয়ার্কশপ থেকে জব্দ করে।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান গতকাল বিকালে আজাদীকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।












