তুমুল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি নিয়ে আসা এক ভয়াবহ ঝড় ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশকে তছনছ করে দিয়েছে এবং শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকারী উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, মৌসুমি বৃষ্টি আসার আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত গরমের সময়ে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যে প্রায়ই ঝড়বৃষ্টির দেখা মেলে। খবর বিডিনিউজের।
কিন্তু বুধবারের ঝড়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়েও অনেক অনেক বেশি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঝড়ে ৫৯ জন আহত, ৮৭টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও ১১৪টি গৃহপালিত প্রাণীর মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। রাজ্যের ডজনখানেক জেলায় অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে তারা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান প্রয়াগরাজ শহর ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর ইয়াশোধের কার্যালয়। যেখানে আমরা বাস করি সেই পুরো এলাকা আধাঘণ্টা পুরো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।
প্রবল বাতাস বিজ্ঞাপনের বড় বড় হোর্ডিং আর সাইনবোর্ড উপড়ে এদিক ওদিক ফেলছিল, মাটি থেকে গাঢ় কয়লার ধুলা চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছিল, বলেছেন উত্তর প্রদেশের সোনভাদ্র জেলার কয়লাসমৃদ্ধ শিল্প এলাকা ওবরার বাসিন্দা অশোক রাজ। টেলিভিশনের ফুটেজে উপড়ে পড়া গাছ ও বিলবোর্ডকে গাড়িতে আছড়ে পড়তে দেখা গেছে। ঝড় রাস্তার পাশের দোকানগুলোর কাঠের আসবাবপত্রও তছনছ করে দিয়েছে, কোথাও কোথাও উড়িয়ে দূরে নিয়ে ফেলেছে। টিনের কাঠামো আঁকড়ে ধরা এক ব্যক্তিকে শূন্যে উড়িয়ে নেওয়ার দৃশ্যও টেলিভিশনে দেখানো এক ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে।
বেরিলিতে হওয়া এই ঘটনায় ওই ব্যক্তি আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। গাছ পড়ে ও দেয়াল ধসে অনেকেই মারা গেছেন বলে রয়টার্সকে রাজ্যটির এক ত্রাণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।













