খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন। তাদের বিনোদনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৩ সালে শহরের উপকণ্ঠে ২০ একর জায়গাজুড়ে চালু করা হয় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্ক। শহরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি স্থানীয় দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবের সময় পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তবে ৪০ টাকা টিকিট কেটে প্রবেশের পর অনেকেই হতাশ হন। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ঝুলন্ত সেতু ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো আকর্ষণ নেই পার্কটিতে। শিশুদের জন্য কিডস জোন থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত রাইডের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাজিক কার, বিভিন্ন টয় রাইড এবং শিশুদের জনপ্রিয় ট্রেনটি বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। কিডস জোনে প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ টাকা টিকিট কাটার পরও অধিকাংশ রাইড অচল থাকায় হতাশ হয়ে ফিরছে শিশুরা।
পার্কে ঘুরতে আসা কিশোর রাহিম জানায়, এখানে তেমন কোনো রাইড নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোতেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কয়েকটি স্লিপার ও দোলনা ছাড়া আমাদের বয়সীদের উপযোগী তেমন কিছু নেই। রাইড বাড়ানো হলে ভালো হতো।
দর্শনার্থী শাহেনা আক্তার বলেন, ঝুলন্ত সেতু ছাড়া উপভোগ করার মতো তেমন কিছু নেই। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, কিডস জোনের বেশিরভাগ রাইড নষ্ট। জায়গাটি অনেকটা অযত্নে পড়ে আছে। পার্কের ভেতরের লেকটিও সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ বোট নষ্ট। লেকে কৃত্রিমভাবে পানি সংরক্ষণ করে কায়াকিং চালু এবং আধুনিকায়ন করা হলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। স্থানীয় দর্শনার্থী রমেশ চাকমা বলেন, শুরুর দিকে শিশুদের জন্য বেশ কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু গত তিন–চার বছরে অধিকাংশ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। জেলার পর্যটনশিল্পের বিকাশে পার্কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে পার্কের উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, কিডস জোনের সব রাইড সংস্কারের বিষয়ে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পার্কের আহ্বায়ক জয়া ত্রিপুরা জানান, শিশুদের সব রাইড দ্রুত সংস্কার, লেকে কায়াকিং চালু, দৃষ্টিনন্দন কটেজ নির্মাণসহ সামগ্রিক উন্নয়নের প্রস্তাব খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্কটি আগের মতো আকর্ষণ ফিরে পাবে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পর্যটন মৌসুমে প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার দর্শনার্থী পার্কে আসেন। প্রতিজনের ৪০ টাকা টিকিট মূল্যে মাসিক আয় প্রায় চার লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা ও আয়–উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে পার্কটির আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীরা।











