ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে–কোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমনে প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার সকালে বান্দরবান জোন সদর মাঠে সেনা মোতায়েন ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর বান্দরবান জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ একথা বলেন।
এদিকে বান্দরবান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বর থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম, ব্যালট পেপারসহ জনবল স্ব–স্ব ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। বান্দরবান জেলা শহরসহ সাতটি উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক মহড়া দেন। বহরে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর বান্দরবান জোন কমান্ডার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে ইতোমধ্যে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানই তাদের মূল দায়িত্ব। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে–কোনো প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। ৩০০ নং বান্দরবান সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনীর ৪৫০ জন, বিজিবির ১০০ জন, র্যাবের ৫০ জন এবং পুলিশ সদস্যসহ সাড়ে ৭শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবান আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৯ জন। জেলার সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৬টি। এর মধ্যে ১৫৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বান্দরবান–৩০০ সংসদীয় আসনে লড়ছেন চারজন প্রার্থী। এরা হলেন বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, জাতীয় পার্টি (কাদের) থেকে লাঙল প্রতীকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ।














