কাপ্তাই জেটিঘাটে অবস্থিত পন্টুনে দৈনিক কয়েক হাজার যাত্রী উঠা নামা করেন। কিন্তু পন্টুনে উঠা নামার যে কাঠের সিঁড়ি রয়েছে তা অত্যন্ত নড়বড়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই নড়বড়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ওপর দিয়ে নারী–পুরুষ শিশু–কিশোর প্রতিদিন যাতায়াত করেন। উঠানামা করতে গিয়ে একটু বেখেয়াল হলেই নোংরা পানিতে পড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই আশঙ্কা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর মানুষ পন্টুনে উঠা নামা করছেন।
গতকাল সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, যাত্রীরা এই পন্টুনের ওপর দিয়ে উঠা নামা করছেন। কাঠটিও এমনভাবে বসানো যে অসুস্থ বা বৃদ্ধদের যে অন্য কেউ সাহায্য করবেন সেই অবস্থাও নেই। অর্থাৎ কাঠের ওপর দিয়ে কেবল মাত্র একজন ব্যক্তি উঠা নামা করতে পারবেন। রুবেল চাকমা নামক এক ব্যক্তি জানান, তিনি অসুস্থ। ঠিকমত হাঁটতে পারেন না। এই নড়বড়ে কাঠ দিয়ে নামার সময় তার অনেক ভয় লেগেছে বলে জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ী ওসমান গণি বলেন, এই জিটিঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। জেটিঘাটে প্রতি শনিবার বিশাল বাজার বসে। এই বাজারে দূর দূরান্ত থেকে ইঞ্জিন নৌকায় করে অসংখ্য ছোটবড় ব্যবসায়ী বিভিন্ন মালামাল নিয়ে কাপ্তাই জেটিঘাট আসেন। কিন্তু জেটিঘাট থেকে নামার যে ব্যবস্থা তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই কাঠের উপর দিয়ে মালামাল নিয়ে উঠা নামা করাটা অনেক কঠিন হওয়া সত্বেও অন্য কোন বিকল্প না থাকায় মানুষ এভাবেই পন্টুনে উঠানামা করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই বেড়াতে আসা মো. সুমন, পারুল আক্তারসহ আরো কয়েকজন জানান–তারা ১৫ জনের একটি গ্রুপ কাপ্তাই এসেছেন। সাড়ে তিন হাজার টাকায় তারা একটি ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণ করবেন। কিন্তু ইঞ্জিন নৌকায় উঠতে হলে আগে পন্টুনে উঠতে হবে। পন্টুনে উঠতে গিয়ে আমাদের অনেকে ভয় পেয়েছেন। কিন্তু অন্য বিকল্প না থাকায় অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা পন্টুনে উঠেছি। এখান থেকে নামার সময় কিভাবে নামব মনে মনে তাই ভাবছি।
কাপ্তাই জেটিঘাটের ব্যবস্থাপক শীতল বাবু জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃক এই পন্টুন বসানো হয়েছে। পন্টুনে উঠানামায় ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কাপ্তাই লেকে প্রায় সময় পানি বৃদ্ধি পায়। আবার অনেক সময় পানি কমে যায়। লেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়া এবং পানি হ্রাস পাওয়ার সাথে পন্টুনও উঠানামা করে। তখন পন্টুনে উঠা নামা করার জন্য যে কাঠ রাখা হয়েছে সেটিও ঠিকভাবে এক জায়গায় বসিয়ে রাখা যায় না। তবে এই সমস্যার কথা তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং এখানে যাত্রী উঠা নামা আরো নিরাপদ করা যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করবেন বলে জানান।