জ্বালানি সংকট, খাগড়াছড়িতে বিপাকে ভাড়ায়চালিত বাইক চালকেরা

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি | শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ইরান যুদ্ধের আঁচ লেগেছে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে। জ্বালানি তেলের সংকটে খাগড়াছড়িতে বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালকরা। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি জেলায় অন্তত ৫ হাজার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক রয়েছেন। জীবিকা নির্বাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা। এখন তলানিতে নেমেছে তাদের আয়। অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

খাগড়াছড়ির নয় উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণপরিবহন সংকট থাকায় যাত্রীদের প্রধান ভরসা এসব ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। তবে বর্তমানে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় যাত্রী পরিবহনও কমে গেছে। চালকদের অভিযোগ, আগে যেখানে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায় না। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আয়ও কমে যাচ্ছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার মোটর সাইকেল চালক মো. আল আমিন বলেন, ৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ১০০ টাকার তেল পাচ্ছি। বাড়ি থেকে স্টেশন পর্যন্ত আসতেই সে তেল শেষ। ভাড়া কীভাবে মারব? এক মাস ধরে এ অবস্থা। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে যাচ্ছি, কিন্ত তেল নাই। এটাই তো আমাদের জীবিকা। তেল সংকটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছি।

আরেক মোটরসাইকেল চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, আমরা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। কিন্তু গাড়ি জায়গা থেকে নাড়াতে পারছি না। সকালে এসেছি, দুপুরেও তেল পাই না। দুর্গম পাহাড়ে গণপরিবহন চলে না। সেখানে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ভরসা। এখন দুর্গম এলাকার যাত্রীরাও বিপাকে। আগে যা আয় করতামএখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মো. ফরহাদ বলেন, আগে আমরা দিনে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতাম। এখন ২০০ টাকা কামাইতে পারছি না। কীভাবে সংসার চালাব? এটাই আমাদের মূল জীবিকা। কীভাবে বাঁচব তার তো কোনো দিশা পাচ্ছি না।

এদিকে ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, তারা তেল মজুত করছেন না। ডিপো থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দ্রুতই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। খাগড়াছড়ির কেসি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রাজেশ দে জানান, আমরা কোনো তেল মজুত করছি না। ডিপো থেকে যা পাই, সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ করছি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, যাদের একান্ত প্রয়োজন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও চাঁদের গাড়ির (জিপ) চালকদের তেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আমরা বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নিব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়া রাহাত আলী স্কুলে ‘সততা স্টোর’ চালু
পরবর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় পিকিং স্টার হাঁস চাষে সাফল্য