জেগে ওঠা চরে বাঁধ দিয়ে তৈরি হচ্ছে চিংড়িঘের

মাতামুহুরীর মোহনা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলার মাঝখানে বিদ্যমান সমুদ্র মোহনার চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালীস্থ মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা ভরাট চর দখলে নিয়ে অবৈধভাবে চিংড়িঘের তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এতে ভবিষ্যতে ওই এলাকা স্থায়ীভাবে জবর দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেলে সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ জেগে ওঠা চর সংলগ্ন মোহনায় শতাধিক ফিশিং বোট অবস্থান করে আসছে শত বছর ধরে। এই অবস্থায় সমুদ্রে মাছ ধরায় নিয়োজিত শত শত জেলেমৎস্য শ্রমিক পরিবারে আহাজারি চলছে।

উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীর বর্তমান সেতুর উত্তরপূর্ব স্থানে তথা কক্সবাজার জেলা পরিষদের আওতাধীন পুরাতন জেটি ঘাট সংলগ্ন জেগে ওঠা ভরাট চরে চিংড়ি ঘের তৈরির উদ্দেশ্যে এই জবরদখল পরবর্তী মাটির বাঁধ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, রাতের আঁধার ঘনিয়ে আসাসহ জনমানুষের অনুপস্থিতিতে শ্রমিক নিয়োজিত করে মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা ভরাট চরে এই বাঁধ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাতারবাড়ি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে জয়নাল আবেদীন।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেনজয়নাল আবেদীন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির কাছ থেকে পুরাতন জেটি ঘাটের পূর্ব পাশে কয়েক একরের একটি চিংড়ি ঘের ইজারা নেন। সেই ঘেরের পরিধি বৃদ্ধি করতে পশ্চিমাংশে নতুন করে জেগে ওঠা নদীর ভরাট চর দখলে নিয়ে সেখানে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছেন জয়নাল আবেদীন। এতে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন ওই ভরাট চর রাতারাতি দখলে নেওয়া হচ্ছে বদরখালী সমিতির নাম ব্যবহার করে। এই দখলদারিত্ব ঠেকাতে প্রয়োজনে সেখানে প্যারাবন সৃজন করার উদ্যোগ নিলে এলাকার সার্বিক পরিবেশ রক্ষা পেতে পারে।

জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেটি ঘাটে জেগে ওঠা চরে মাটির বাঁধ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ এবং সেখানে প্যারাবন সৃজনের দাবি জানিয়েছেন চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, সমুদ্র মোহনার মাতামুহুরী নদীর ভরাট চর এভাবে দখলে নিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরি করা হলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত, গতিপথ সংকুচিত এবং নাব্যতা সংকট দেখা দেবে। ব্যাহত হবে নৌযান চলাচল এবং ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য। এতে ওই এলাকায় অবস্থানকারী শত শত ফিশিং বোট আর জেটি ঘাটে ভিড়তে পারবে না। এই অবস্থায় শত শত জেলেমৎস্যশ্রমিক পরিবারে আহাজারি দেখা দিয়েছে। তাই এই অবৈধ দখল ঠেকাতে সেখানে প্যারাবন সৃজন করা যেতে পারে।

বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির পরিচালক (সদস্য) নুরুল কাইছার বলেন, ‘বদরখালী পুরাতন জেটি ঘাট লাগোয়া জেগে উঠা নতুন ভরাট চরে বাঁধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদরখালী সমিতির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নেয়নি। তাই যে বা যাঁরা ভরাট চর দখলে নিয়ে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে তা অবৈধ।’ তবে অবৈধ দখলদার জয়নাল আবেদীনের পক্ষ নিয়ে এবং জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অভিযোগ নাকচ করে সমিতির সম্পাদক মঈন উদ্দিন বলেন, ইজারাদার জয়নাল আবেদীন কতৃক মৎস্য ঘেরের আয়তন বাড়ানোর বিষয়টি সমিতির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এক্ষেত্রে সমিতির সম্পদ বাড়াতে সহযোগিতা করছেন জয়নাল।’ অভিযুক্ত জয়নালও দাবি করেছেন এখানে জেলা পরিষদের কোন জায়গা নেই এবং সমিতি থেকে ইজারা নিয়েই ঘেরের পরিধি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

চকরিয়ার ইউএনওর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব দৈনিক আজাদীকে বলেন, সমুদ্র মোহনার বদরখালীস্থ জেটিঘাটের ভরাট চর দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঙবাজার জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শনসহ জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে অবৈধ চিংড়িঘের তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে পত্র দেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক শওকত মাহমুদ
পরবর্তী নিবন্ধনানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু