সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় সাঙ্গু নদীর বাঁধের নিচের অংশ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া অংশের দুই পাশে দূর পর্যন্ত ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধের আরও বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো চৌধুরী পাড়া ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।
গত জুলাইয়ে সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে চৌধুরী পাড়া এলাকায় বাঁধের ওপরের অংশ ভেঙে যায়। সমপ্রতি ওই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও টিউব বসানোর কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে কিছু অংশে জিও টিউব বসানোর পর বাঁধের নিচের অংশ ধসে পড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষায় নদীর স্রোতে ভেঙে যাওয়া বাঁধের কিছু অংশে জিও টিউব বসানো হয়েছে। তবে সেগুলোর নিচের অংশ নদীতে ধসে গেছে। ধসে যাওয়া অংশের আশপাশেও বেশ কিছু ফাটল দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ফাটলযুক্ত অংশগুলোও ধসে পড়তে পারে।
বাজালিয়া চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা মো. ফোরকান বলেন, কয়েক বছর আগে বন্যার সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে চৌধুরী পাড়া এলাকায় বাঁধের ওপরের অংশ ভেঙে যায়। এরপর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত করা হয়নি। ফলে গত জুলাইয়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ফোরকান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে সমপ্রতি জিও টিউব বসানোর কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিছু অংশে জিও টিউব বসানোর পর বাঁধের নিচের দিকে ধস শুরু হয়। গত এক সপ্তাহে বাঁধের বড় একটি অংশ ধসে গেছে। আশপাশেও ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়বে।
একই এলাকার বাসিন্দা আনসারুল হক বলেন, চৌধুরী পাড়ায় বাঁধের যে অংশ ধসে গেছে, তার নিচে নদী অনেক গভীর। ধসে যাওয়া স্থান থেকে দূর পর্যন্ত ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত না করলে ভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ধসে যাওয়া অংশে নদীর একেবারে তলদেশ থেকে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে পুরো চৌধুরী পাড়া ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। বাঁধের ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার অভিযোগ, বাঁধের নিচের অংশ খালি রেখে ওপরে ভারী জিও টিউব বসানো ঠিক হয়নি। এতে উল্টো ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা–১–এর পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাঙ্গু নদীর ১৫০ মিটার বাঁধে জিও টিউব বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিছু অংশে জিও টিউব বসানোর পর বাঁধের নিচের অংশ ধসে যেতে শুরু করে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মো. মাহবুব আলম বলেন, ধসে যাওয়া বাঁধ এলাকা তারা পরিদর্শন করেছেন। তাদের নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হয়েছেন। নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদানের পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। তবে মানুষের ভোগান্তি এড়াতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।












