বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, আমি বিগত ২০০৩ সালে একবার চন্দনাইশে এসেছিলাম একটি মাহফিলে। তখন আমি ওই মাহফিলটি করতে পারিনি। এক ব্যক্তির ইশারায় আমার মাহফিলের খাবার, প্যান্ডেল সবকিছু নিয়ে নেয়া হল। সে থেকে ২২ বছর পর আবার চন্দনাইশ আসলাম। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের হয়ে শামসুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম– ১৪ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। তখন এখানকার প্রত্যেকটি পাড়া–মহল্লায় তিনি গিয়েছেন। ১৯৯৬ সালেও এখানে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করেছে। এবার এ আসনে নির্বাচন করছেন চন্দনাইশেরই সন্তান ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করে না, সকল হুমকি ধমকি উপেক্ষা করে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য জামায়াত ইসলামীর সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা তো ওই চট্টগ্রামের মানুষ, যারা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর ৭ দিন চট্টগ্রামকে বন্ধ রেখেছিলাম। এই আরাকান রোডে বাসও উঠতে পারে নাই। সেই চট্টগ্রামের অংশ এই চন্দনাইশ। এজন্য আপনারা যারা যুবক ভাইরা এসেছেন, এখানে আমরা যাকে প্রার্থী দিয়েছি তিনি আগামী নির্বাচনে অবশ্যই দাঁড়িপাল্লায় বিজয়ী হবেন। মরহুম মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ। এ আসন জামায়াতে ইসলামীর আসন।
তিনি গতকাল শুক্রবার সকালে চন্দনাইশের সুচিয়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত যুব প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চন্দনাইশ জামায়াতের আমির মাওলানা কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি কাজী আহসান সাদেক পারভেজের সঞ্চালনায় যুব প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর (উত্তর) সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা ৩৬ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছর থেকে ক্ষমতা দখল করে থাকা আওয়ামী লীগকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছি, এখন জাতির আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে ৩৬ জুলাই চেতনায় ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কায়েম করা। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু নাসের, সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ শাহাদাত হোসাইন, দরসে কোরআন পেশ করেন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ পৌর আমির কাজী কুতুব উদ্দিন, বায়তুল মাল সম্পাদক আব্দুল খালেক নেজামী, দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলী প্রমুখ।