ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনী সমাঝোতায় চট্টগ্রাম–৮ আসনটি (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপিকে ছেড়ে দেয়ার কথা জামায়াতে ইসলামীর। কিন্তু গতকাল শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এর প্রতিবাদে গত রাতে নগরের বহদ্দারহাটে একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট চট্টগ্রাম অঞ্চল। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জানান, তিনিই ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী।
তিনি বলেন, আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের সর্বশেষ দিন। একটা জোট জোটবদ্ধ হয় কিছু কমন গোলকে সামনে রেখে। এর ভিতরে একটা কমন গোল হচ্ছে, প্রত্যেকে প্রত্যেকের মত নমিনেশন ফর্ম জমা দিবে, কিন্তু প্রত্যাহারের সময় প্রত্যাহার করে নিবে। এটা হচ্ছে দলগতভাবে প্রত্যেকের পজিশন। ওই জায়গা থেকে খেলাফতে মজলিস উইথড্র করেছেন, এবি পার্টির সাথে আমার কথা হয়েছে উনারা উইথড্র করার কথা বলেছেন। শুধুমাত্র এই জায়গায় খালি আছেন জামায়াতে ইসলামী।
জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, আমি খোঁজখবর নিয়েছি, আমার পক্ষ থেকে একটা ভুল বোঝাবুঝির হয়তো কারণ হয়েছে। আমি মনে করেছিলাম, ওনারা হয়তো দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এখানে ডাবলই একটা ইলেকশন করবেন। কিন্তু আমরা যখন আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেছি, নাহিদ ইসলাম, আসিফ সজীব ভূঁইয়ার সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি, মনিরা শারমিন আমাদের নির্বাচন কমিটিতে আছেন– উনাদের সাথে যোগাযোগ করেছি, উনারা বারবার একটা জিনিস এনসিওর করেছেন যে, চট্টগ্রাম–৮ এ আমরা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে থাকবো।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জোনাল হেড শাহজাহান ভাই, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যিনি তত্ত্বাবধায়ক উনার সাথে যখন যোগাযোগ করা হয়, উনিও জিনিসটা কনফার্ম করেন। উনি ( ডা. নাছের) উনার ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থানরত আছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটা ইস্যুজ থাকে, প্রার্থী যদি নিজে পদত্যাগপত্র অথবা প্রত্যাহার পত্রটা নিয়ে না যান উনারা এঙেপ্ট করেন না। ওই জায়গা থেকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, প্রতীক বরাদ্দের একটা ইস্যুজ আছে। প্রতীক বরাদ্দের সময় জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ট এটাকে আইডেন্টিফাই করবেন।
তিনি বলেন, কালকে (আজ বুধবার) প্রতীক বরাদ্দের বিষয় আমাকে বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমি কালকের প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকবো এবং শাপলাকলি প্রতীকে আমি নমিনেট হব ইনশাআল্লাহ। ১০ দলীয় জোট আমাদের সর্বশক্তি নিয়ে চট্টগ্রাম–৮ কে নিয়ে আমরা ঝাপিয়ে পড়বো। আরিফ বলেন, চট্টগ্রামে ১৬টা আসন। চট্টগ্রাম–৮ আসনকে নির্বাচনী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে আমাদেরকে নির্বাচন করতে বলা হয়। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা ৮টা আসনে নমিনেট করার কথা নির্বাচনী ঐক্যজোটকে বলেছিলাম। ১০ দলীয় ঐক্যজোট একটা আসনে আমাদেরকে সমর্থন দেয়ার কথা জানান, ওইটা হচ্ছে চট্টগ্রাম–৮।
তিনি বলেন, এখানে আমাদের হাফেজ এনায়েতুল্লাহ ভাই আছেন। আমি উনাকে অনেক বেশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে উনি প্রথম এই ব্যাপারটাকে এড্রেস করেন, এবং উনি নিজেই আমাকে ফোন দেন অভিনন্দন জাানিয়ে বলেন, আমার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য শাপলাকলির জন্য যেভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন উনি ওইভাবে সহযোগিতা করবেন এবং ১০ দলীয় জোটের যে লক্ষ্য, অন্তত নির্বাচনের লক্ষ্য ওটা যাতে হাসিল হয়।
তিনি বলেন, আমরা এবি পার্টির সাথেও আলাপ আলোচনা করেছি। আরো অন্যান্য দল যেগুলো আছেন প্রায় সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা জামায়াতে ইসলামের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি। আমার সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের কথা হয়েছে। নাহিদ ইসলামের পরামর্শক্রমে আমরা এ আলাপ আলোচনা করেছি এবং সবদিক দিয়ে সুস্পষ্ট চমৎকার একটা ফলাফলের সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হতে পেরেছি।












