জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস ও চট্টগ্রামে বিনিয়োগ শিক্ষার অপরিহার্যতা

মোহাম্মদ আইয়ুব | সোমবার , ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

প্রশিক্ষণ মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন, আর্থিক স্বনির্ভরতা কিংবা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তবুও দুঃখজনক বাস্তবতা হলোদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবসটি ২৩ জানুয়ারি কার্যত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ ছাড়াই অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকাকেন্দ্রিক ও প্রশাসননির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থারই প্রতিফলন। বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখনো মূলত সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে প্রশিক্ষণ একটি সর্বজনীন উন্নয়ন কৌশল না হয়ে ক্রমশ একটি সংকীর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। সাধারণ জনগণের বড় অংশ আজও জানে নাপ্রশিক্ষণ কী, কেন প্রয়োজন, এবং এটি কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের আর্থিক ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও এখানে বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক প্রশিক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ঢাকায় যেমন বিআইসিএমসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, চট্টগ্রামে তার সমতুল্য কোনো কাঠামো নেই। ইসলামিক শরিয়াভিত্তিক সুদমুক্ত বিনিয়োগ, আয়কর ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত, ট্রেজারি বন্ড, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, গ্রিন বন্ড, ডলারভিত্তিক বন্ড, সুসুক বন্ড, পারপিচুয়াল বন্ড, কর্পোরেট বন্ড, ব্যাংকের ডিপোজিট পেনশন স্কিম, জীবন বিমা, ডাকঘরের মেয়াদি আমানত, সরকারি সর্বজনীন পেনশন স্কিম, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র, মিউচুয়াল ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শেয়ার ও স্টক, অবসর পরিকল্পনা কিংবা রিয়েল এস্টেট, স্বর্ণ, জমি ও ফ্ল্যাটে বিনিয়োগএসব বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাবে সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এর ফলে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ বা জমা দুর্বল করে দেয় এবং জাতীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির বিকাশকে ব্যাহত করে। আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরপিএটিসি), চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রিসোর্স পার্সন হিসেবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিচট্টগ্রামে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের কোনো অভাব নেই, প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী মানুষেরও ঘাটতি নেই। মূল অভাব রয়েছে নীতিনির্ধারণ, সুসমন্বিত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের সদিচ্ছার।

জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস তখনই প্রকৃত অর্থে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে, যখন প্রশিক্ষণ হবে সর্বজনীন, বিকেন্দ্রীকৃত এবং ঢাকামুখী নয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো সম্ভাবনাময় নগরীতে বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক প্রশিক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে নারী শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুবিধা চাই
পরবর্তী নিবন্ধযাঁর স্নেহ-ভালোবাসার ফল্গুধারায় সিক্ত আমাদের শৈশব- কৈশোর