ঢাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ ইতিহাসের একটি কঠিন বাঁক অতিক্রম করছে, যেখানে আমাদের যুবসমাজ ও নারীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গবেষণা খুব সীমিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই বিষয়ে গবেষণায় ফোকাস করা হলেও আমরা সুবিচার করতে পারিনি। ফলে এ বিষয়ে গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, জিডিপি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দেশ তুলনামূলকভাবে সফল হলেও, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা এখনো সক্ষম হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে আমাদের। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এই এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গতকাল শনিবার সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইআইইউসির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্টের ২য় এবং আইআইইউসির ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সামাজিক ব্যবসা এবং জাতিসংঘের একাধিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা একটা ব্যাপক বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বসবাস করছি। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, ডিজিটাল বিশৃংখলা, আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং আর্থ–সামাজিক অসমতার বিস্তৃতি আমাদেরকে প্রথাগত বিজনেস মডেল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ব্যবসায় শিক্ষা এবং গবেষণা নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের আলোকে পরিচালিত হওয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসায় খাতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইআইইউসি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষার্থীরা পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে এমন নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা একদিকে আধুনিক জ্ঞান ও পেশাদারিত্বে দক্ষ হবে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অটুট রেখে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
কনফারেন্সে গতকালের প্লেনারি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার ত্রিশক্তি ইউনিভার্সিটির এডজান্ক্ট প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও মুআমালাত অনুষদের প্রফেসর ড. মুস্তাফা বিন মোহাম্মদ হানিফাহ এবং পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব সারগোধার উপ–উপাচার্য প্রফেসর ড. মাসুদ সরওয়ার আওয়ান। আজ আমন্ত্রিত বক্তা থাকবেন চবি গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার লিডারশিপ ও ম্যানেজমেন্ট অনুষদের সহকারী ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. নূরহায়াতি রাফিদা আবদুল রহিম।
উল্লেখ্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ফিলিপাইনসহ ৮টি দেশের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের কো–অর্গানাইজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৭২ জন গবেষক–প্রতিনিধি এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছেন।
কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬৫টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে ১১৪টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আজ রোববার কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে দেশ–বিদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিতগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন এ কে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন কাসেম খান।











