জলাবদ্ধতাসহ নগরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গত রাতে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে মেয়রসহ বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় মেয়রকে প্রধান করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, সমস্ত কাজ যাতে মেয়র সমন্বয় করতে পারেন, এজন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়র পক্ষ থেকে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সবার সঙ্গে আলোচনা করে, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান, অথরিটি, বিভাগ এই নগরবাসীর জন্য সিটি কর্পোরেশন এরিয়ায় কাজ করে থাকেন তাদের সমন্বয়ে মেয়রকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকায় ফিরে গিয়ে সরকারিভাবে এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন আকারে দিয়ে দিব। জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যে বিষয়গুলো রয়েছে, সমস্যা তৈরি হলে মেয়র সাহেব যেন ওই ক্ষমতাবলে (সমন্বয় কমিটির প্রধান) মিটিং করে সবাইকে নিয়ে সমাধান করতে পারে।
এদিকে সভায় যোগ দেয়ার আগে প্রতিমন্ত্রী প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না, চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।’ একই কথা তিনি নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সভায়ও বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর প্রচার হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, কেবল প্রবর্তক মোড় এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট দেখা দেয়।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, চলমান খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে কিছু জায়গায় পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হলেও দ্রুত তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে খালের পানি প্রবাহ সচল করা হবে এবং বর্ষার পর পুনরায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ইতোমধ্যে ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন করেছে এবং প্রায় ৬ হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। বাকি খালগুলোর কাজ চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০–৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০–৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে মেয়রের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায়।
এসময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরের জলাবদ্ধতা ৫০–৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে তা আরো ৭০–৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মেয়র আরো বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি যুক্ত করতে আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোথায় ময়লা জমেছে, কোথায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই বা কোথায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে, এসব তথ্য নাগরিকরা সরাসরি জানাতে পারবেন।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি। এছাড়া তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে দেশের সেরা সেবা প্রদানকারী সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলবে। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।














