হযরত আলী (র) বলেছেন ভিক্ষুককে এক বস্তা আটা দান করার চেয়ে সন্তানকে আদব শিক্ষা দেয়া অধিক শ্রেয়। সকল দাম্পত্য জীবনে সন্তান একটি অমূল্য সম্পদ। অনেকে সন্তানের জন্য হাহাকার করে ব্যর্থ মনোরথে জীবন অতিবাহিত করছে। আবার কেহ অবাধ্য সন্তানের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সন্তানহীন জীবনই উত্তম ভাবছে। সন্তান যে কেউ যে কোন প্রক্রিয়ায় জন্ম দিতে পারে কিন্তু আদর্শ পিতা হওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সুসন্তান যেমন পরিবার সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য গৌরব, গর্বের বিষয় তেমনি আর্দশ পিতা ও সমাজের শিক্ষা শান্তি শৃঙ্খলা নিরাপত্তা সুশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য অপরিহার্য। সন্তান জন্ম দিয়েই পিতার দায়িত্ব কর্তব্য শেষ নয় সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে নীতি নৈতিকতা, মার্জিত আচরণ, ভদ্র, আর্দশ চরিত্র, সততা, মাতা–পিতার আনুগত্য, বিনয়ী, মানবিক মানবতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, দায়িত্ব কর্তব্যপরানয়ণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সর্বোপরি দেশপ্রেমিক সুসন্তান সমাজকে আলোকিত করে। আলো প্রজ্জ্বলিত সন্তান গড়ে তুলতে পিতার নিরলস প্রচেষ্টা ও ভূমিকার বিকল্প নেই। বর্তমান সভ্যতার অগ্রসরমান সমাজের অস্থিরতার অন্যতম কারণ হচ্ছে সমাজে এক শ্রেণির পিতা সন্তানের প্রতি নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। এ উদাসীনতা শিক্ষিত অশিক্ষিত উভয় শ্রেণিতে বিদ্যমান। সন্তান সুমানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে তার পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমানভাবে প্রযোজ্য। সমাজের প্রত্যেক সন্তানই সমাজ নির্মাণের কারিগর। নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রধান প্রথম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার এর শিক্ষক হচ্ছেন মাতা পিতা। সন্তানের নানা অপকর্মের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মাতাপিতাই দায়ী। যখনই সন্তান প্রতিপক্ষ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে বা নিহত হয় তখনই সন্তানের ভালো চরিত্রের সত্যায়ন নিয়ে অভিভাবকের আভির্ভাব ঘটে। সন্ত্রাসীদের অভিভাবকদের মৌন সম্মতি থাকে বলে সন্তান বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমন কিছু অভিভাবক দেখা যায় সন্তানের অপকর্মের কৃতিত্বে নিজেকে আলাদা মর্যদাসম্পন্ন অসুস্থ অনুভূতিতে গর্ববোধ করে।
শুধু সন্তান জন্ম দিয়েই পিতার দায়িত্ব শেষ নয় তাকে সুসন্তান হিসাবে গড়ে তুলতে সার্বিক যত্নশীল হতে হবে পারিবারিক শিক্ষা পিতার চেয়ে মায়ের ভূমিকা অধিক। যে মাতা–পিতার মধ্যে শিক্ষার গুণাবলির অভাব রয়েছে তাদের থেকে সুসন্তান আশা করা বৃথা। সন্তান জন্ম দেয়াটা যেমন প্রাকৃতিক সন্তান লালনপালন ও অনেক অভিভাবকের কাছে প্রাকৃতিক নির্ভর বলে মনে হয়, সুসন্তান গড়ার বিষয়টি তাদের কাছে খুবই গৌণ। অভিভাবক সচেতন হলে সন্তান বিপথগামী হওয়ার সুযোগ নেই। বিপথগামী সন্তানের কারণে পিতার কঠোরতার দৃষ্ঠান্ত মূলক একটি সত্য ঘটনা উল্লেখ করে লেখার ইতি টানব। আমার এক বন্ধুর ভিসা এসেছে প্রবাসে চলে যাবে তাই আত্নীয় স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ করতে আমি সহ শহরে কয়েকটি বাসায় বেড়াতে যাই শেষ পর্যায়ে ওয়াসার পশ্চিমে একটি বাসায় গিয়ে কয়েকবার কলিং বেল টিপ দিয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকি দেখি কোন সাড়া শব্দ নেই অনেকক্ষণ পর ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এসে দরজা খুলে দিলে আমরা ভিতরে গিয়ে বসি। আগে অন্য যে বাসাগুলোতে গিয়েছি যারা দরজা খুলে দিয়েছে সহাস্যে কুশলাদি বিনিময় করেছে এখানে দেখলাম ব্যতিক্রম যিনি দরজা খুলে দিয়েছেন তিনি কোন কথা না বলে ভার মুখে ভিতরে চলে গেলেন। বন্ধু আমাকে গেস্ট রুমে বসতে বলে সেও ভিতরে চলে গেল। অনেক ক্ষণ বসে থেকে বন্ধু বেরিয়ে এসে বললেন চলুন, বাইরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কিছু বুঝতে পেরেছেন? আমি বললাম বাসায় কিছু একটা ঘটেছে মনে হয়। বন্ধু বললেন এ বাসাটা হচ্ছে আমার (বন্ধুর) ভগ্নিপতির বোনের জামাইর (তালত ভাইয়ের) তিনি কুয়েত প্রবাসী অনেক অর্থবিত্তের মালিক তার ছেলে ডাকাতি মামলার আসামি সে বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলতেছে। স্বামীর যুক্তি হচ্ছে সন্তান যে বখে গেছে মায়ের ভূমিকা কী ছিল? তার কোন অভাব ছিল না ছেলে কেন ডাকাতি করতে গেল? স্ত্রীর প্রতি তার কড়া নির্দেশ তোর ছেলেকে যদি সৎপথে ফিরিয়ে আনতে না পারিস তাহলে তোকে আমি তালাক দিয়ে দিব। সমাজে এমন কয়জন পিতা বা মাতা আছে সন্তানের ব্যাপারে এ রকম কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত রেখেছে। প্রত্যেক অভিভাবক যদি পারিবারিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে তবে কারো সন্তান বিপথগামী হওয়ার সুযোগ নেই। তাই পিতা হওয়া সহজ কিন্তু আর্দশ পিতা হওয়া কঠিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক










