হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে অনায়াসেই জিতেছে ব্রাজিল। মরক্কো ম্যাচের বিবর্ণতা ঝেড়ে ফেলে, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা কোন পথে ছুটবে, তার একটা ধারণা অন্তত পেয়েছে সমর্থকরা। প্রথম ম্যাচের মলিনতায়, যারা কোচের কৌশল ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিলেন চরম হতাশাগ্রস্ত ও সন্দিহান, তারা এখন নতুন আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে ইঙ্গিত মিলছে, আনচেলত্তির দলের চেনা পথে, চেনা ছন্দে ফেরার। হাইতি সেই অর্থে যদিও শক্তিশালী দল নয়। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ৮৫ নম্বরে। তাছাড়া রক্ষণ ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে উপরে উঠে খেলার প্রবণতাও রয়েছে তাদের। ব্রাজিল তাই খেলার জন্য ফাঁকা জায়গা পেয়েছে পর্যাপ্ত। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে গতকাল ৩–০ গোলে হারাল ব্রাজিল। একাদশে ফেরার ম্যাচে জোড়া গোল করেন মাতেউস কুইয়া, বাকি গোলটি আসে ভিনিসিউস জুনিয়রের পা থেকে। অপরদিকে এই পরাজয়ে এবারের আসরে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল হাইতির। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশটি প্রথম ম্যাচে হেরেছিল স্কটল্যান্ডের কাছে।
ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করলেন ভিনিসিউস। ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘ফিলাডেলফিয়ায় ফিরে এসেছে সাম্বার ছন্দ…।’ প্রথমার্ধে তিন গোলের পর মনে হচ্ছিল, সাম্বার তালে হয়তো আরও জ্বলে উঠবে ব্রাজিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ততটা ধার আর দেখা গেল না। হলো না আর কোনো গোল। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তিই পাবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
কুইয়ার সেরা একাদশে ফেরা ভারসাম্য ফিরিয়েছে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে এই পজিশনে ইগো চিয়াগোকে খেলান আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নামান লুইস এইহিকেকে। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। ম্যাচটি ১–১ ড্র করে ‘সি’ গ্রুপে যাত্রা শুরু করে আনচেলত্তির দল। এবার কুইয়া আলো ছড়ানোয়, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে ব্রাজিল।
এই ম্যাচে মাঝমাঠেও কিছু ঝলক দেখিয়েছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে ভীষণ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন লুকাস পাকেতা। হাইতির বিপক্ষে তাকে দেখা গেছে সাচ্ছ্বন্দ্য নিয়ে ছোটাছুটি করতে, ভিনিসিউস ও কুইয়াকে প্রয়োজনীয় বলের যোগানটুকু দিতে। বাম প্রান্ত দিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সংযোগের সহজাত রসায়ন, কুইয়া জমিয়ে তুলেছিলেন ভিনিসিউস ও পাকেতার সঙ্গে। নেইমার চোটাক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এই জায়গায় খামতি ছিল এতদিন, সেটাও পূরণের ইঙ্গিত মিলেছে প্রবলভাবে।
তবে, আনচেলত্তির আকাশ থেকে দুর্ভাবনার মেঘ পুরোপুরি সরেনি এখনও। টানা দুই ম্যাচে কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি রাফিনিয়া। পায়ের পাতার চোটের কারণে সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলন করতে না পারা এই ফরোয়ার্ড খেললেও ধারাল ছিলেন না। অস্বস্তি বোধ করায় প্রথমার্ধেই তাকে তুলে নেন ব্রাজিল কোচ।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কাসেমিরোকে নিয়েও। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে, ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মানিয়ে নিতে পারবেন তো? তবে মাঝমাঠের ডান দিকটা ব্রুনো গিমারেস সামলাচ্ছেন দারুণভাবে। মাঝমাঠ আগলে রাখার পাশাপাশি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেরও দেখভাল করতে, তাকে নিচে নামিয়ে আনার প্রয়োজন পড়ছে ব্রাজিলের।












