মানুষ বাঁচতে চায় অনেক বছর, বহু বছর। তাইতো প্রতি রাতে আমরা আগামীকাল বেঁচে থাকার কোনও গ্যারান্টি ছাড়াই ঘুমাতে যাই। জেগে উঠার জন্য একটি অ্যালার্ম সেট করি। প্রচণ্ড আশা নিয়ে। স্বপ্নের যেমন শেষ নাই, আশার কোনও শেষ নাই। ঘুম থেকে কেউ উঠি, আর কেউ উঠে না। কিন্তু সকাল ঠিকই যথাসময়ে হয় এর জন্য কোন অ্যালার্ম সেট করতে হয় না। এই অনিশ্চিত জীবন নিয়ে আমাদের দিনের পর দিন পথ চলা। এই ছোট্ট জীবনের জন্য আমরা চেষ্টা করি একটু সুখে থাকার জন্য, ভালো খাওয়ার জন্য, প্রতিপত্তি হওয়ার জন্য, গাড়ি বাড়ি ও সমাজে দামী মানুষ হওয়ার জন্য। এই সব করতে গিয়ে হিংসা বিদ্ধেষ লোভ লালসায় নিজেকে জড়িয়ে নিজেকে উচ্চ বিলাসি গড়ে তুলি এবং সমাজকে অস্থির করে তুলি। কিন্তু কী লাভ! এত সুনাম, এত অর্থ কেন? কার জন্য? প্রতিটি মুহূর্ত নিত্য নতুন ঘটনায় শান্তপ্রিয় মানুষ ক্রমশ অশান্তিতে ভরে উঠে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভাবী দুঃখী মানুষের পাশে কয়জন বৃত্তবানরা দাঁড়ায়। একই জায়গায় কেউ পেট ভরে খেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া ফেলে দিচ্ছে। আর কেউ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। কেউ আরাম আয়েশে ঘুমায় আর কেউ কন কনে শীতে রাস্তায় কুঁকড়ে ঘুমায়। কেন এত বৈষম্য, কেন এত আদিপত্য এত অহংকার। কয়দিন থাকবে এই আত্মঅহংকার। সবই অনিত্য। এই সব দেখে খুবই দুঃখ পাই। ভাষাহীন হয়ে পড়ি। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দয়ামায়া আন্তরিকতা সব যেন এই চকচকে আধুনিকায়ন যুগে হারিয়ে গেছে। ভদ্রতা সামাজিকতা নৈতিকতা মানবতা সব যেন ভাষণ, লেখালেখি আর পুস্তকের ভিতর বন্দি হয়ে আছে। এই ইঙ্গিত কিন্তু কখনই সুখের নয়। পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ জীব হচ্ছে মানুষ। মানুষের চিন্তা শক্তি ও মানসিকতায় কিনা করতে পারে। ডিজিটাল যুগে যতই পরিবর্তন আনুক কিন্তু সবার আগে মানুষের মন মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া নিত্যান্তই জরুরি। একজন সুন্দর মানুষ চাই, যার মন সুন্দর। শ্রীশরৎ চন্দ্র চট্টপাধ্যায় বলেছেন মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে। লেখকের উক্তিটি অসাধারণ এর অর্থ অপরিসিম, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে চায় বেঁচে থাকতে পেট ভরে খেতে, শান্তিতে সুখে সম্মান নিয়ে থাকতে। কিন্তু নিজে সুখী হলে হবে না অন্যের এবং চারপাশের মানুষের কথা আমাদের সবার ভাবতে হবে। এখানেই মানুষের মনুষ্যত্বের পরিচয়। ইদানীং আমরা সংবেদনশীল হওয়া থেকে দিন দিন দূরে সরে গেছি, এটাই বতর্মান বাস্তবতা। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে সকলে এগিয়ে আসুন।











