রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) হত্যাকাণ্ডের চারদিন অতিবাহিত হলেও সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত কোনো মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের পরিবার, সমর্থক এবং অনুসারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিসিটিভিতে খুনিদের স্পষ্ট চেহারা দেখা গেলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারাকে দুঃখজনক বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।
গতকাল বুধবার বিকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী চম্পাতলী জামে মসজিদে মাসুদের মৃত্যুর চতুর্থ দিন ‘শহীদ মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ সমর্থকগোষ্ঠী’র উদ্যোগে এক খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আগত সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় নেতৃত্বে রয়েছেন চৌধুরী পরিবারের দুই কাণ্ডারী এবং মাসুদ নিজেও চৌধুরী পরিবারের রাজনীতি করতে গিয়ে আজীবন হামলা, মামলা, জেল জুলুম সয়েছেন। এখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, এখন তার হাসির সময়, পাওয়ার সময়। কিন্তু এই সময়ে এসে তাকে খুন হতে হলো, এতিম হতে হলো তার চার বছরের শিশু কন্যাকে। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও চারদিন ধরে খুনের রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি প্রশাসন। এই খুনের সুষ্ঠু বিচার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে তারা আর কোনো নোংরা রাজনৈতিক পরিচয়ে যাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। পরে নেতৃবৃন্দ নিহতের কবর জিয়ারত করেন।
এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একথা জানান।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে র্যাব–৭ কর্তৃক ধৃত মো. রায়হান মূলত সিসিটিভি ফুটেজে মাসুদের নিথর দেহ থেকে মানিব্যাগ টেনে নিয়েছিল। এছাড়া বাজারে সন্দেহজনক গতিবিধি থাকায় মোহাম্মদ জাকির নামে স্থানীয় এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি এবং কর্ণফুলী নদীর বালুমহাল সংক্রান্ত কারণে তাকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া–রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত মূল ৫ অস্ত্রধারীসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির সমন্বয়ে যৌথ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।











