চাঁদ আবর্তন শেষে ফেরার পথে আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীদের তোলা প্রথম কিস্তি ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। এসব ছবিতে চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর অস্তগমন ও মহাকাশ থেকে দেখা অপূর্ব এক সূর্যগ্রহণের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি ‘আর্থসেট’ বা পৃথিবীর অস্তগমন, অর্থাৎ চাঁদের এবড়োথেবড়ো পাহাড়ের আড়ালে আমাদের প্রিয় পৃথিবী ‘ডুবে যাচ্ছে’। দ্বিতীয় ছবিতে চমৎকার এক সূর্যগ্রহণের দেখা মিলেছে। নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদ সূর্যকে ঢেকে ফেলায় তারা এ বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হন।
বিবিসি লিখেছে, চাঁদ প্রদক্ষিণ করে নভোচারীরা পৃথিবীর পথে। তবে এসব ছবি ঠিক কোন কোন নভোচারী তুলেছেন তা আলাদা করে জানায়নি নাসা।
এ ‘আর্থসেট’ ছবিটি ১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো ৮ মিশনের বিল অ্যান্ডারসের তোলা সেই বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ বা পৃথিবীর উদয় ছবির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই অভিযানটিও ছিল চাঁদে মানুষের প্রথম পা রাখার ঠিক আগের বছরের এক প্রস্তুতিমূলক মিশন। মহাকাশের অতল অন্ধকারের বুকে আমাদের এই নীল গ্রহের সেই অসহায় তবে সুন্দর রূপটি এখনও পর্যন্ত পরিবেশ বিষয়ক অন্যতম সেরা আইকনিক ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়। খবর বিডিনিউজের
নভোচারীরা ছয় ঘণ্টার ফ্লাইবাই বা চাঁদ আবর্তনের সময় এসব ছবি তুলেছেন; যার মধ্যে এমন সময়ও ছিল যখন তাদের মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পাশে থাকায় পৃথিবীর সঙ্গে রেডিওসহ সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। নাসা বলেছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় ‘ডে–লাইট সেইভিং’ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৪টা ৪১ মিনিট) ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে এ ‘আর্থরাইজ’ ছবিটি তোলা হয়েছে। নাসার বর্ণনা অনুসারে, ছবির অন্ধকার অংশে তখন পৃথিবীতে রাত। আর পৃথিবীর যে অংশে দিন, সেখানে অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে মেঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। ছবির সামনের দিকে ‘ওম’ নামের একটি গর্ত দেখা যাচ্ছে, যার কিনারাগুলো খাঁজকাটা এবং মাঝখানটা সমতল হলেও সেখানে পাহাড়ের মতো চূড়া রয়েছে। সাধারণত বড় কোনো আঘাতের ফলে যখন চাঁদের পৃষ্ঠ তরল হয়ে ছিটকে ওপরের দিকে উঠে যায় তখনই এ ধরনের জটিল গর্তের মাঝে পাহাড় বা চূড়া তৈরি হয়।
নভোচারীদের জন্য এ অসাধারণ ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল সূর্যগ্রহণ দেখা, যেখানে সূর্য তাদের অবস্থান থেকে পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে গিয়েছিল। নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার দৃশ্যটিকে ‘সায়েন্স ফিকশন’ বা কল্পবিজ্ঞানের মতো এবং ‘অলৌকিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি সূর্যের ‘করোনা’ বা সৌরচ্ছটার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, দৃশ্যটি বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। সূর্য এখন চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়ে গেলেও সূর্যের করোনা এখনও দেখা যাচ্ছে। এ সৌরচ্ছটা এতো উজ্জ্বল যে, পুরো চাঁদের চারপাশে যেন এক আলোর বলয় তৈরি করেছে। বাইরে পৃথিবীটা কী ভীষণ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে, আর চাঁদটা ঠিক আমাদের চোখের সামনে ঝুলে আছে।














