বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) ‘সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পেট–সিটি’ অপারেশনাল কার্যক্রমে যাওয়ার কাছাকাছি জায়গায় আছি। ইতোমধ্যে পেট–সিটি স্ক্যান মেশিন চলে এসেছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সাইক্লোট্রন মেশিন চলে আসবে। এরমধ্যে বাকি যন্ত্রপাতির স্থাপনের কাজ চলমান থাকবে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) চট্টগ্রামের মিলনায়তনে ‘সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পেট–সিটি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অংশীজনদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সাইক্লোট্রন মেশিন চালু করা গেলে সেই মেশিনের উৎপাদিত আইসোটোপ নিয়ে বেসরকারি খাতের হাসপাতালগুলো ক্যান্সার নির্ণয়ের পেট–সিটি পরীক্ষাটি করতে পারবে। সে কারণেই স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় করছি। আপনাদের (স্টেকহোল্ডারদের) সুবিধা–অসুবিধাগুলো জানতে চাই। কারণ আপনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব একটা বিজনেস প্ল্যান আছে। আর আমাদের কাছে আপনারা ক্লায়েন্ট। কাজেই আপনারা ভোগান্তিতে পড়বেন, এই ধরনের কোনো কাজ হবে না। সাইক্লোট্রন মেশিন চালু হলে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে–চট্টগ্রামের রোগীদের আর পেট–সিটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় দোড়াদৌড়ি করতে হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ।
ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা স্বাস্থ্যখাতের অংশীজন, চিকিৎসক, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। মতবিনিময় সভায় ‘সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পেট–সিটি স্থাপন’ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন ইনমাস, চট্টগ্রামের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ ফারহান মুহতাসিম এবং প্রকল্প রোডম্যাপ : পরিকল্পনা ও পরিচালনা গাইড উপস্থাপন করেন উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এম মঞ্জুর আহসান। এছাড়া স্টেকহোল্ডাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনোয়ারুল আজিম।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন অধীনে পেট–সিটি প্রযুক্তি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে, বিশেষত ক্যান্সার নির্ণয়, রোগের স্টেজিং, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও চিকিৎসার অগ্রগতি মূল্যায়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানে অন–সাইট সাইক্লোট্রনের মাধ্যমে এফডিজি, পিএসএমএ রেডিওআইসোপ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হলে নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও মানসম্মত রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর ফলে রোগীদের সেবা আর দ্রুত, কার্যকর ও সাশ্রয়ী হবে এবং রাজধানীর উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তাছাড়া, পেট–সিটি ও সাইক্লোটন সুবিধা চালু হলে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গবেষণার পথ সুগম হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল/স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবিষ্যতে সাইক্লোট্রন হতে রেডিওআইসোটোপ সংগ্রহের বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তি সম্পাদিত হয়।












