চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আয়োজনে এবং চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ৮–৯ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী গতকাল সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এবং উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) ও চবি ক্রীড়া উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন। এছাড়া প্রধান বিচারক ও চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল–আমীনসহ অন্যান্য বিচারকবৃন্দ, হলের প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ, ক্রীড়া আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক–শিক্ষার্থীবৃন্দ, চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), কর্মকর্তা–কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহের ক্রীড়াসহ কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন হওয়ায় চাকসু, চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এবারের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ভিন্নরকম ইতিবাচক মাত্রা পেয়েছে। প্রতিটি হলের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলায় অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস দেখে আমাদের কষ্ট ভুলে গেছি। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এসে বুঝলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আশা করি, আমাদের ক্রীড়াবিদরা তাদের চর্চা অব্যাহত রাখবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো অবদান রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। উপাচার্য বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং চর্চা অব্যাহত রেখে আগামীতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। যারা জয়ী হতে পারেনি তাদেরকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আগামীর সাফল্য লাভের প্রত্যাশায় নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আশা করি, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা মাদকের পরিবর্তে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহী হবে। চবি ক্যাম্পাসের ক্রীড়াবিদরা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্র হলের মধ্যে চবি শহীদ আবদুর রব হল ৬৪ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন, চবি শাহ আমানত হল ৫০ পয়েন্ট পেয়ে রানার্স আপ, চবি অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল ২১ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। ২০ পয়েন্ট পেয়ে শহীদ আবদুর রব হলের হীরক রায় ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের রুমন জয় তঞ্চঙ্গ্যা যৌথভাবে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হন। রুমন জয় তঞ্চঙ্গ্যা দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শাহ আমানত হলের মো. জাকির হোসেন ১৫ পয়েন্ট পেয়ে ব্যক্তিগত রানার্স আপ হয়েছেন।
ছাত্রী হলের মধ্যে চবি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল ৫৪ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন, প্রীতিলতা হল ১৬ পয়েন্ট পেয়ে রানার্স আপ এবং ১০ পয়েন্ট পেয়ে শামসুন নাহার হল তৃতীয় স্থান অর্জন করে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী ও চাকসুর সহ–খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক তামান্না মাহবুব প্রীতি দ্রুততম মানবী এবং ২০ পয়েন্ট পেয়ে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৩ পয়েন্ট পেয়ে একই হলের মিফতা জাহান মীম রানার্স আপ হয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনিয়া পারভীন লাকী, মোছা. সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা, মিথিলা মল্লিক ও সাকিব আহমেদ।











