চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) পক্ষ থেকে আয়োজিত ২ দিনব্যাপী নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার্থে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) ভবনের ২য় তলায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশিক্ষক সনদ তুলে দেন। গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর চাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এই আত্মরক্ষা কর্মসূচি দুই দিনব্যাপী চলমান ছিল। এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রাইয়া আমিন, যিনি বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, উপ উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. আলামিন এবং ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়াও চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, সহ ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাসহ চাকসুর অন্যান্য সম্পাদকমন্ডলীও উপস্থিত ছিলেন।
উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) বলেন, চাকসুর এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জন্য। আত্মরক্ষার কৌশল শুধু ক্যাম্পাসে নয়, বাড়ি ও রাস্তাঘাটসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর। প্রতিকূল সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখাই মূল শিক্ষা। এ ছাড়াও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি জানান, প্রশাসন সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে, তবে ব্যক্তিগত সুরক্ষায় কৌশলগত জ্ঞান ও মানসিক প্রস্তুতি জরুরি। এই দক্ষতা ধরে রাখতে মার্শাল আর্ট ক্লাবের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা চালাতে পারে। উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে এসব প্রশিক্ষণ নেয়, যা আমাদের দেশের বাস্তবতায় মেয়েদের জন্য আরও বেশি প্রয়োজনীয়। স্মার্টনেস কেবল পোশাকে নয়, বরং দক্ষতা অর্জন ও নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপনের মধ্যে নিহিত। তিনি অর্জিত কৌশলগুলো আত্মস্থ করতে নিয়মিত অনুশীলনের ওপর তিনি জোর দেন। ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে চাকসুর এই উদ্যোগ অনন্য। তিনি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর অফিস ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এটি আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশা ব্যক্ত করেন। চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব জানান এই আয়োজনটিও তাদের ইশতেহার বাস্তবায়ন অংশ ছিল। তিনি বলেন, আবাসন ও যাতায়াত সমস্যার কাজ চলমান এবং ১০টি হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ডিপিপি (উচচ) পাস হয়েছে। এ সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সিট দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেয়াদ শেষে ক্ষমতা আঁকড়ে না রেখে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের করবেন। এ ছাড়াও চাকসুর ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সহ ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা ও জান্নাতুল ফেরদাউস রিতাসহ অন্যান্য সম্পাদকমন্ডলীরাও বক্তব্য রাখেন।












