হিজাব অবমাননার প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। জাতীয় সংসদে একজন বিএনপি নেতার হিজাব বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য এবং দেশে সামপ্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে সংগঠনটি ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সংস্থাটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার প্রশিক্ষণ বিভাগের সেক্রেটারী ও চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা বলেন, জাতীয় সংসদের মত রাষ্ট্রের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি দলীয় একজন এমপি বোরকা–নিকাবকে বউ বদলের সাথে তুলনা করেছেন। বিরোধী দলীয় নারী সাংসদদের কটাক্ষের মুখোমুখি করেছেন। জাতীয় সংসদের মতো একটা জায়গা থেকে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ এ ধরনের বক্তব্য কাম্য করে না। একজন এমপি যখন সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে এ ধরনের অহেতুক কথাবার্তা বলেন তখন আসলে এটা খুবই ন্যাক্কারজনক। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবে এবং বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। শাখা ছাত্রীসংস্থার সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আফরিদা রিমা বলেন, সমপ্রতি নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্য একাধিকবার পুনরাবৃত্তি হতে দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানকারী মনিরুল হক তার বক্তব্যের জন্য কোনো ধরনের অনুতাপ বা ক্ষমা প্রকাশ করেননি। বরং তিনি উল্টো অবস্থান নিয়ে বক্তব্যকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করছেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন শাখা ছাত্রীসংস্থার প্রচার সম্পাদক তাওফীকা রহমান। দাবিগুলো হলো, জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।












