চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাইযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বদুরপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন রাহাত জানান, চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাইযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিন গত শুক্রবার রাতে সিএনজি টেক্সিযোগে পটিয়া থেকে চন্দনাইশের বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তারা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১০–১২ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে তাদের চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তিনি জানান, আমরা স্বৈরাচারের দোসর জসিমের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলাম। তখন থেকে তার অনুসারীরা বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। এরপর থেকে বিভিন্ন হুমকি–ধমকি দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে আমরা আগেরদিন থানায় জিডিও করি। তার অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলার অভিযোগের ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, জুলাইযোদ্ধারা হচ্ছে আমাদের আবেগ। কিন্তু এলডিপি, কিছু সংখ্যক এনসিপি এবং জামায়াত ইসলামী– তারা তো জোট। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত একজন প্রার্থী। আমি চন্দনাইশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই– দুষ্কৃতিকারী দল ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বদুরপাড়া রাস্তার মাথায় একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে চন্দনাইশবাসীকে জানাতে চাই, বদুরপাড়া রাস্তার মাথায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যা রটানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং আমাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত চলছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাছবাড়িয়ায় সড়ক ব্লকেড বৈষম্যবিরোধীদের : চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাইযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মো. মঈন উদ্দীন মাহিনের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রাম–১৪ চন্দনাইশ–সাতকানিয়া (আংশিক) আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়। এই ব্লকেড কর্মসূচির ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন দূর–দূরান্তের সাধারণ যাত্রীরা।
ব্লকেড কর্মসূচির খবর পেয়ে চন্দনাইশে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ব্লকেড কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্লকেডকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললে প্রায় ২ ঘণ্টা পর ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাইফুল ইসলাম রাব্বি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবারও মহাসড়ক ব্লকেড করে দাবি আদায় করা হবে।












