চট্টগ্রামের ৯৫ শতাংশ প্রার্থী নবীন

অতীতে এমপি ছিলেন ৫ জন লড়ছেন ২৭ দলের ১০৬ প্রার্থী, আছেন ৯ স্বতন্ত্রও

মোরশেদ তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মোট প্রার্থীর মাত্র ৫ শতাংশ অতীতে সংসদ সদস্য ছিলেন। বাকি ৯৫ শতাংশ প্রার্থীর অতীতে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। ওই হিসেবে এবার নবীন প্রার্থীর সংখ্যা বেশি চট্টগ্রামে। এছাড়া এবার নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ৫৪ শতাংশই প্রার্থী দিয়েছে চট্টগ্রামে। এর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলবিএনপি প্রতিটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৯ জন। বাকি ১০৬ প্রার্থী ২৭টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এবার ১৬ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রাম১১ আসনে।

অভিজ্ঞ প্রার্থী বেশি বিএনপির : চট্টগ্রামের ১৬ আসনে অংশ নেয়া মোট প্রার্থীর মধ্যে অতীতে সংসদ সদস্য ছিলেন ৫ জন, যাদের চারজন বিএনপির ও একজন জামায়াতে ইসলামীর। ওই হিসেবে চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠে অভিজ্ঞ প্রার্থী বেশি বিএনপির।

অতীতে সংসদ সংসদ সদস্য ছিলেন এমন প্রার্থীরা হচ্ছেনচট্টগ্রাম১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম(সন্দ্বীপ) আসনের বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম(রাউজান) আসনের বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম১৩ (আনোয়ারাকর্ণফুলী) আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম এবং চট্টগ্রাম১৫ (সাতকানিয়ালোহাগাড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। এর মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্বাচনী এলাকা(ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, বন্দর) আসন থেকে উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমীর খসরু সংসদ সদস্য হিসেবে একই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। মোস্তফা কামাল পাশা সন্দ্বীপ থেকে বিএনপির ব্যানারে ষষ্ঠ (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি), অষ্টম (২০০১) ও নবম (২০০৮) সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারে বিজয়ী হন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে নির্বাচিত হন। সরওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন (ষষ্ঠ ও সপ্তম) ও ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া শাহাজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়ালোহাগাড়া আসন থেকে বিজয়ী হন।

প্রার্থী বেশি চট্টগ্রাম১১ আসনে : এবার সবচেয়ে বেশি ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রাম১১ আসনে। বাকি আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম২ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম৫ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম৬ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম৭ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম৮ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম৯ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম১২ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম১৩ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম১৫ আসনে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম ১৬ আসনে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতি আসনেই প্রার্থী আছে বিএনপির : এবার নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপিই চট্টগ্রামের ১৬ আসনের প্রতিটিতে প্রার্থী দিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ জন করে প্রার্থী আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। অবশ্য জামায়তে ইসলামী তিনটি আসন (চট্টগ্রাম, ৮ ও ১৪) শরীক দলকে ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপিকে চট্টগ্রাম৮ আসন ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও আসনটিতে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও।

এদিকে দেশে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬৩টি। এর মধ্যে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে বিএনপিজামায়াতসহ ২৭ টি দলের প্রার্থী আছে চট্টগ্রামে।

নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হাত (পাঞ্জা) প্রতীকের বাংলাদেশ মুসলিম লীগবিএমএল’র একজন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন প্রতীক) এর একজন, জাতীয় পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির (বিএসপি) ২ জন, গণঅধিকার পরিষদজিওপি’র ৬ জন, জনতার দলের ২ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একজন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির একজন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ২ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ৩ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ৬ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ৫ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন, আমার বাংলাদেশ পার্টিএবি পার্টির একজন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একজন, নাগরিক ঐক্যের একজন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর ৩ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলবাসদের একজন, গণফোরামের একজন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিএলডিপির ২ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনএনডিএম’র একজন, জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপির একজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলজেএসডির দুইজন ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রামে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী
পরবর্তী নিবন্ধশান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা, বিনা কারণে অনেক ছাত্রকে গ্রেপ্তার