ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ৮ টি আসনে ভোটের মাঠ জমজমাট হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে, এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে প্রায় প্রতিটি আসনেই নতুন প্রার্থী রয়েছেন। এদের অনেকে বয়সে প্রবীণ হলেও এটা তাদের প্রথম নির্বাচন।
চট্টগ্রামে নির্বাচনী মাঠে ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর ২০ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ১৩ প্রার্থী প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম–১৪ আসনে এলডিপি এবং চট্টগ্রাম–৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীও প্রথমবার নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন– জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী–চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল আমিন। অপরদিকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনী জটিলতা এড়িয়ে এখনো প্রতীক পাননি। শুরু থেকেই এই আসনে নবীন–প্রবীনের দুই প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী লড়াই বেশ জমে উঠলেও ঋণ খেলাপীর কারণে নির্বাচন কমিশনের আপিলে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।
ফটিকছড়ি আসনে এখন বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৬ জন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসিবে লড়ছেন জিন্নাত আকতার– হরিণ প্রতীক নিয়ে ও আহমদ কবির–ফুটবল প্রতীক নিয়ে। চট্টগ্রাম–৫ (হাটাহাজারী ও চসিক একাংশ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বয়সে একেবারে তরুণ এই প্রার্থী অনেকটা নির্ভার হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী নেই। জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীনকে (রিকশা প্রতীক) এই আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল) সহ মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দুইজনই প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের তুলনায় বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী অনেকটা তরুণ। এই আসনে বয়সে প্রবীণ এবং তরুণ দুই প্রার্থীর ভোটের মাঠের লড়াই বেশ জমা উঠেছে। এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিবেন তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী ও চসিক একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সাথে বয়সে একেবারেই তরুণ এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফের নির্বাচনী মাঠের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছেরের পক্ষেও তার কর্মী–সমর্থকরা লড়ছেন নির্বাচনী মাঠে। তিন প্রার্থীই প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম–৮ আসনটি ১১ দলীয় জোটের শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই তার নামে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার। প্রতীক বরাদ্দের পর নগর জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন থেকে জামায়াতের প্রার্থীর আসন পরিচালক ও নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী ঘোষণা দেন, এনসিপি প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের।
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের সমবয়সী হলেও এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ বয়সে একেবারে নবীন। এই আসনে দুই প্রবীন প্রার্থীর সাথে এক তরুণের লড়াই চলছে সমানে সমান। এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী–ডবলমুরিং–হালিশহর) বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালী দুইজনই জীবনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্রার্থীর ইমেজই বেশ ভালো। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালীর তুলনায় বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বয়সে অনেকটা তরুণ। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ আরমান আলী (ফুটবল)। এই আসনে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক। এই আসনে এই এই দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সমানে সমানে চলছে ভোটের হিসেব নিকেশ। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে দুইজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। তারা হলেন–স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী–ফুটবল, স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম রাহী–মোটর সাইকেল।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের ভোটের লড়াই চলছে প্রায় সমানে সমান। বয়সে প্রবীণ সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর তুলনায় বিএনপি প্রাথী নাজমুল মোস্তফা আমীন বয়সে অনেকটা তরুণ। তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এই আসনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বতা করছেন।
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দুইজনই প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দুইজনই বয়সে প্রায় সমান–সমান। শুরু থেকেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী-(ফুটবল) স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। এই আসনে মোট ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ১১৩ প্রার্থী।











