চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বর্জ্যকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমি আগ্রহী। এক্ষেত্রে জাপানের প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনে জাপানের জেএফই (ঔঋঊ) ইঞ্জিনিয়ারিং–এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং–এর প্রতিনিধিরা জানান, জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চসিকের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। প্রতিনিধি দল আরো জানায়, জাপান–বাংলাদেশ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাপান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সম্মতি রয়েছে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করে। এই বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বর্জ্য থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাংলাদেশের বাস্তব প্রয়োজনের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।
জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং–এর পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন গেন তাকাহাসি, কেন্টা ওহাসি এবং ভাস্কর সাহা। চসিকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












