চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের উত্থান ঘটেছে। প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পিতার রাজনৈতিক আসনে বিজয়ী হয়েছেন তিন তরুণ প্রার্থী। তিন যোগ্য সন্তানের স্থানীয় রাজনীতিতে উত্থান নতুন প্রজন্মের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা তিন তরুণ চট্টগ্রাম তথা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ১,১৬,৪৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে শুধু হাটহাজারী নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের রাজনীতিতে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সরকারি দলের এমপি হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন। পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মীর হেলালও ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এলাকার উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। নিজের কর্মকাণ্ডের সাথে তরুণদের সম্পৃক্ততার উপরও জোর দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জয় পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,০১,৪৪৫ ভোট। তার পিতা শুধু রাউজান বা রাঙ্গুনিয়া নয়, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ছিলেন। ছিলেন নানাভাবে আলোচিত। দফায় দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জীবনে নানা রাজনৈতিক উত্থান–পতন ছিল। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বহুমুখী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। পিতার আসনে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন হুমাম কাদের। হুমাম কাদের চৌধুরী বয়সে নবীন হলেও ইতোমধ্যে দেশের রাজনীতিতে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন গুম ছিলেন তিনি। হয়েছেন নানাভাবে নির্যাতিত। জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয়ী হয়েছেন, সরকারী দলের এমপি হিসেবে যাচ্ছেন সংসদে। সমর্থকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাংগঠনিক যোগাযোগ ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তা তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে।
চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–খুলশী) আসনে ১,২১,৩৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাঈদ আল নোমান। তিনি সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র। নগর এবং জাতীয় রাজনীতিতে আবদুল্লাহ আল নোমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে সাঈদ আল নোমানের এই জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রচারণায় তিনি শিক্ষা, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন আসনে ফল দেখে বোঝা যায়, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এখনো বড় ফ্যাক্টর। তবে একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গ্রহণে ভোটারদের আগ্রহও স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমবার মনোনয়ন পাওয়া তিন প্রার্থীর বিজয় সংগঠনের ভেতরে তরুণ নেতৃত্বের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পিতার জনপ্রিয়তার উত্তরাধিকার ধরে রেখে এই নতুন প্রজন্ম নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। আগামী সংসদীয় কার্যক্রম ও এলাকায় উন্নয়নে প্রথমবার সংসদে যাওয়া তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।












