চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে

২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জন হামে আক্রান্ত । আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ১৯ মে, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি বাড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গত ৬ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন শিশু মারা গেছে। এসব শিশুর জ্বরের সাথে শরীরে র‌্যাশ ছিল বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। এরমধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার শিশু ছিল ৭ জন। এছাড়া ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডি হাসপাতাল, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, হামের কিটের স্বল্পতার কাছে ঢাকার মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে নমুনা জট রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা হচ্ছে ধীরগতিতে। তাই অনেক শিশু উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলেও তার হাম হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৫ লাখ হামের টিকা আসায় টিকার সংকট কেটে গেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলায় টিকার ক্যাম্পেইন চলছে।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে গতকাল উপসর্গ নিয়ে আরো ৪৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬২৬ জন ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৫৫২ জন নগরীর এবং ৭৫ জন উপজেলার। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজর ৩৭৯ জন। গতকাল নতুন করে ৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট হাম আক্রান্ত হয়েছে ১২৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে এক শিশু। গতকাল ঢাকায় পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে ১৯ জনের। সব মিলিয়ে মোট নমুনা পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ৩০ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশিহাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতা হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। তবে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেসব শিশু নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ খায় এবং ভিটামিন ‘এ‘ ঘাটতি নেই তাদের হাম হওয়ার সম্ভাবনা কম। হাম প্রতিরোধের জন্য শিশুদের অপুষ্টি রোধ করা জরুরি। হাম এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। যাদের ভিটামিনের ঘাটতি হয় এবং অপুষ্টিতে ভোগে তাদের হাম হলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। নিয়মিত চিকিৎসায় বেশিরভাগ শিশু ভালো হয়ে যায়। হাম ছোঁয়াছে হওয়ার কারণে রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় হামের টিকার ক্যাম্পেইন চলছে। একটি শিশু যেন টিকার আওতা থেকে বাদ না যায় সে কারণে টিকার ক্যাম্পেইনের সময় সীমা ১০ দিন বাড়িয়ে ২০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে, তাদের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। দেশে এখন হামের টিকা এসেছে। টিকার কোনো সংকট নাই।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে।

সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবিস্থত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, হাম রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি চলছে। হামের উপসর্গের দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে যদি কোনো শিশুর জ্বরের সাথে কফ, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং র‌্যাশ আসে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এই রোগে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বাসায় নিয়ে বসে থাকলে বিপদ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। হাম রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধচবির হলে দেশীয় অস্ত্র হাতে যুবক, ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা