ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে নিবন্ধন করেছেন ৯৫ হাজার ২৪৬ জন ভোটার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম–১৫ আসনে। প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি–এসডিআই’ প্রকল্প সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসে ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন চালু হয়। তফসিল ঘোষণার পর নিবন্ধন শুরু হয় দেশে। নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল গত সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত।
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর যার যার আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন নিবন্ধিত ভোটাররা। পরদিন থেকেই ফিরতি ডাক পাঠানো যাবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা, নাম ও প্রতীক দেখে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে তারা ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটে। দ্রুত সময়ে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে উপযুক্ত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট না পৌঁছালে সেই ভোট গণনায় নেওয়া হবে না।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। সারা দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার।
ইসির এই প্রকল্পের টিমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে দেশের ভেতরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। বাকি ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিতদের ঠিকানায় দুটি ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামে কোন আসনে কত নিবন্ধন : চট্টগ্রাম–১ মীরসরাই আসনে নিবন্ধন করেছেন ৬,৫৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬১০৬ জন, মহিলা ভোটার ৪৮০ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৮ জন। অনুমোদিত ৬,৫৬৮ জন।
চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৭,৬৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২৬৩ জন, মহিলা ভোটার ৪২৬ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৯ জন। অনুমোদিত ৭,৬৭০ জন। চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৪৭৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪৭৫ জন, মহিলা ভোটার ৩১৭ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৩ জন। অনুমোদিত ৪,৭৭৯ জন। চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনে নিবন্ধন করেছেন ৫,১৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৫৩৭ জন, মহিলা ভোটার ৬০৭ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ৯ জন। অনুমোদিত ৫,১৩৫ জন। চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে নিবন্ধন করেছেন ৬,৭৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬,২৯৯ জন, মহিলা ভোটার ৪৮৬ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ২২ জন। অনুমোদিত ৬,৭৬৩ জন।
চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে নিবন্ধন করেছেন ৪,০০৫ জন। পুরুষ ভোটার ৩,৭৭১ জন, মহিলা ভোটার ২৩৪ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৩ জন। অনুমোদিত ৩,৯৯২ জন। চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে নিবন্ধন করেছেন ৫,৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৪৯৫ জন, মহিলা ভোটার ৩৫৮ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৯ জন। অনুমোদিত ৫,৮৩৪ জন। চট্টগ্রাম–৮ বোয়ালখালী–চান্দগাঁও আসনে নিবন্ধন করেছেন ৫,৬০৫ জন। পুরুষ ভোটার ৪,৭৮৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৮২০ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ২১ জন। অনুমোদিত ৫,৫৮৪ জন।
চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনে নিবন্ধন করেছেন ৩,৮৩৬ জন। পুরুষ ভোটার ২,৮৫২ জন, মহিলা ভোটার ৯৮৪ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ১৭ জন। অনুমোদিত ৩,৮১৯ জন। চট্টগ্রাম–১০ ডবলমুরিং–পাহাড়তলী ও হালিশহর আসনে নিবন্ধন করেছেন ৬,১৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫,০২৩ জন, মহিলা ভোটার ১,১১৭ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৬ জন। অনুমোদিত ৬,১২৪ জন।
চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনে নিবন্ধন করেছেন ৫,৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫,৩২০ জন, মহিলা ভোটার ৬২৩ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ৫ জন। অনুমোদিত ৫,৯৩৮ জন। চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে নিবন্ধন করেছেন ৩,২০১ জন। পুরুষ ভোটার ২,৮৪০ জন, মহিলা ভোটার ৩৬১ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১০জন। অনুমোদিত ৩,১৯১ জন।
চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে নিবন্ধন করেছেন ৩,২১৯ জন। পুরুষ ভোটার ২,৮৫০ জন এবং মহিলা ভোটার ৩৬৯ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ১৫ জন। অনুমোদিত ৩,২০৪ জন। চট্টগ্রাম–১৪ চন্দনাইশ আসনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৫,২৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪,৯১১ জন এবং মহিলা ভোটার ৩৭৩ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ২২ জন। অনুমোদিত ৫,২৬২ জন।
চট্টগ্রাম–১৫ লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক আসনে নিবন্ধন করেছেন ১৪,৩০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩,৫৩৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৬৮ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ৯৫ জন। অনুমোদিত ১৪,২০৬ জন। চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে নিবন্ধন করেছেন ৬,৭৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬,২১১ জন, মহিলা ভোটার ৫৫১ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন ৫৬ জন। অনুমোদিত ৬,৭০৭ জন।












