চট্টগ্রামে নতুন করে আরো ৫ জনের হাম এবং ১ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। গত দুই দিনে এখন পর্যন্ত ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন নগরীর এবং দুইজন উপজেলার। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া জেলায় গত এক সপ্তাহে মোট ৭৫ জনের নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস–রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে নগরীর ৩৫ জন এবং ৪০ জন উপজেলার।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৯ জন নগরীর তিন হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৭৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭ জনের হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হওয়ার তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। বাকিদের তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে হামে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। কোনো ধরনের গুজবে কান দেয়া যাবে না। এছাড়া বর্তমানে আমাদের টিকার সংকট নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, চমেক হাসপতালে ১৮ জন শিশু ভর্তি আছে। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের নিচে। তাদের আলাদাভাবে ওয়ার্ডে হাম কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। পরিদর্শন শেষে সিটি মেয়র উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমি সরেজমিনে দেখেছি, এখানে টোটাল রোগী আছে ১৮ জন। সাসপেক্টেড নিউমোনিয়ার রোগী ১৭ জন, একজন রোগী হচ্ছে মিসেলস (হাম)। আরেকটা রোগী আমরা দেখেছি রুবেলা। কিন্তু ম্যাক্সিমাম রোগী নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে। একদম গায়ে র্যাশ বা জ্বর নিয়ে আসলেই যে হাম হয়ে যাবে, এটা না। মিসেলস ডিটেক্টেড হয়ে এসেছে একজন। আর বেশিরভাগ রোগী হচ্ছে সাসপেক্টেড নিউমোনিয়া। আল্টিমেটলি যে রোগীগুলো মারা যাচ্ছে, এগুলো কিন্তু নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে– ডিউ টু কার্ডিও রেসপিরেটরি ফিলিউর অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিসট্রেস। এখানে হাসপাতালের ডিরেক্টর এবং শিশু বিশেষজ্ঞরাও আছেন। ভয়ের কিছু নেই। নিউমোনিয়া রোগী তো সবসময় আসছে। সর্দি কাশি থেকে ফুসফুস ইনফেকশন হলে আমরা নিউমোনিয়া বলি।
সিটি মেয়র আরো বলেন, নিউমোনিয়ার জন্য সিরিয়াস রোগী হলে এখানে নিউনেটাল আইসিইউ এবং পেডিয়াট্রিক আইসিইউ আছে ২০ বেডের। সিরিয়াস কোনো কেস তৈরি হলে আইসিইউ ফ্যাসিলিটি দিতে পারবে। সবাই প্রস্তুতি নিয়ে আছে। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা রয়েছে এবং টিকা দিচ্ছে। একজন মেয়র হিসেবে নয়, একজন ডাক্তার হিসেবে এবং সচেতন নগর সেবক হিসেবে বলতে চাই, যে টিকাগুলো জন্মের পর থেকে দেওয়া শুরু করেছি, সব ভ্যাকসিনেসনের অধীনে আনতে পারলে এ ধরণের কোনো ভ্যাকসিন ডেফিসিয়েনসি রিলেটেড রোগ হবে না।












