চট্টগ্রামে গ্যাসে এখনো সুখবর নেই

মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি সারেনি শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, চুলায় চাপ কম সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৫ জুলাই, ২০২৬ at ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের গ্যাসের কোনো সুখবর নেই। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি এখনো ঠিক করা যায়নি। ফলে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমদানিকৃত এলএনজিনির্ভর চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টরের সংকট ক্রমে বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে ঘরে রান্নার চুলায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। কোথাও কোথাও চুলা জ্বলছে না। সিএনজিচালিত যানবাহনগুলো বিপাকে পড়েছে। প্রতিটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ৪শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশের ৩৮শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২২শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে করে চট্টগ্রামের মতো ঢাকাসহ পুরো দেশে গ্যাসের সংকট তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রামের জন্য বাড়তি বিপদ হচ্ছে ঢাকার দিকে গ্যাসের যোগান বাড়ানো হলে চট্টগ্রাম আরো বেকায়দায় পড়বে। গত মঙ্গলবার একটি ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে করে গ্যাস সংকট আরো বেড়েছে।

মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও অপরটি দেশীয় বেসরকারি কোম্পানি সামিট। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন লাগে। এতে টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের যোগান কমে গেছে। এই দুটি এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানিকৃত গ্যাসের উপর নির্ভরশীল চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টর। সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাসের যোগান কমে গেছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪শ মিলিয়ন ঘনফুট। এখানে বেশ কিছুদিন ধরে ২৭০ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ ছিল। কিন্তু এঙিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে সরবরাহ কমিয়ে ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার দিকে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো হলে চট্টগ্রামের সরবরাহ আরো যাবে বলে সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে।

গতকালও চট্টগ্রামে ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। চট্টগ্রামে কেবলমাত্র কাফকোতে সার এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন চলছে। চাহিদার সাথে যোগানের ব্যবধান বাড়ার সাথে সাথে কমে যাচ্ছে গ্যাসের চাপ। শিল্পকারখানা এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকার রান্নাঘরের চুলাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সূত্র বলেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানাসহ সবগুলো খাত বেকায়দায় পড়ে। বিশেষ করে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গতকাল ছুটির দিনেও প্রতিটি রিফুয়েলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোনো কোনো এলাকায় রান্নাঘরের চুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাসের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা আজাদীকে বলেন, কোনো সুখবর নেই। ভাসমান টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাসের যোগান বাড়ার আশা ক্ষীণ, বরং কমতে পারে। তিনি বলেন, ভাসমান টার্মিনালটির দুটি বয়লার রয়েছে। একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরটি চালু করা গেলে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। প্রকৌশলীরা সেটা ঠিক করার চেষ্টা করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন সোমবার
পরবর্তী নিবন্ধবঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, আলোচনায় কারা