চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক কোর্ট চালু হচ্ছে আজ

মামলা ব্যবস্থাপনা থেকে নথি সব অনলাইনে । বিনামূল্যের এ প্রকল্পে বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে সবাই সুফল ভোগ করবেন

হাবীবুর রহমান | রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

মামলা দায়ের থেকে রায় ঘোষণাসহ বিচারিক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপই পরিচালিত হবে অনলাইনে। অনলাইনেই হাজিরা, কোর্ট ফি ও নথি জমা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে। মামলা ব্যবস্থাপনা থেকে নথি ব্যবস্থাপনাও অনলাইনে পরিচালিত হবে। বিচারপ্রার্থী ব্যক্তি তার পছন্দের আইনজীবীও নির্বাচন করতে পারবেন এ অনলাইনেই। পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত বিরোধ সহজে এবং ভোগান্তিবিহীন নিষ্পত্তির লক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘ইপারিবারিক কোর্ট’ প্রকল্প চালু করেছে। বিনামূল্যের এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আদালতের সহায়ক কর্মচারী, আইনজীবী, বিচারক সবাই সুফল ভোগ করবেন।

পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ের বিচারে ডিজিটাল এ ব্যবস্থার যাত্রা ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়ে গেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেখানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। আজ রোববার চট্টগ্রামেও এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে সকাল ৯ টায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

আইনজীবীরা বলছেন, পারিবারিক কোর্টব্যবস্থার ফলে পারিবারিক বিরোধের সমাধানকে আরো দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করে তুলবে। এ ব্যবস্থা সফল হলে অন্যান্য বিষয়ের জন্য নির্ধারিত কোর্টেও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পথ প্রশস্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগ অটোমেশনের পরবর্তী সংযোজন হচ্ছে ইপারিবারিক আদালতব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার ফলে বিচারপ্রার্থীকে আদালতে যেতে হবে না। ঘরে বসেই তিনি আইনজীবী নির্বাচন করতে পারবেন। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ডিজিটালি তিনি সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মামলার তারিখ খুদে বার্তা ও ইমেইলে জানতে পারবেন বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। কোর্টের রেজিস্ট্রারসহ নথি বিভাজনও হবে ডিজিটালি। সংশ্লিষ্টরা আরো বলছেন, পারিবারিক কোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে মামলা দায়ের করতে পারবেন। ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে একটি ড্যাশ বোর্ড রয়েছে। সেখানেই মামলার অগ্রগতি, তারিখ ও ফলাফল পাওয়া যাবে। সাধারণত নথি হারানোর সুযোগ থাকলেও ইপারিবারিক কোর্ট ব্যবস্থায় সেটি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোর্টের ফলে আইনজীবীদেরও প্রতিদিন কোর্টে হাজিরা দেওয়ার ঝামেলা কমবে। যেকোনো স্থান থেকেই তারা অনলাইন হাজিরা দিতে পারবেন। নিজস্ব পোর্টালে আইনজীবীর পরিচালিত সব নথি থাকবে একসঙ্গে। ফলে ব্যবস্থাপনা হবে সহজ। এদিকে যেকোনো জায়গা থেকে লগইন করে নথির কাজ যেকোনো সময়ে খসড়া করে রাখতে পারবেন আইনজীবীরা। আদালত সহায়ক কর্মচারীদের কাজও সহজ করবে ই কোর্ট ব্যবস্থা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোর্টের ফলে নথি জমা দেওয়া, কপি তোলা ও বারবার একই তথ্য প্রস্তুতের কাজ কমবে। কোর্টের তারিখ ও নথি যাচাই, সবই হবে সিস্টেমজেনারেটেড। ফলে প্রশাসনিক অদক্ষতা কমে আসবে, সময় বাঁচবে এবং কাজ হবে দ্রুত। বিচারকেরাও ইকোর্টের সুফলের আওতায় থাকবে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব ড. উম্মে সরাবন তহুমরা বলেন, ই কোর্টের ফলে কেস ম্যানেজমেন্ট সহজ হবে। আসন্ন কাজগুলো দেখা যাবে এক ক্লিকেই। ইকোর্টের ফলে আদালত সহায়ক কর্মচারীদের তদারকি, কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং কর্মীদের কাজের মান মূল্যায়ন হবে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত। এ ছাড়া অনলাইনে শুনানির সুযোগের ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের অনুপস্থিতির কারণে দিনের পর দিন আর মামলা মূলতবী রাখতে হবে না। জাল বা ভুয়া কোর্ট ফিও প্রতিরোধ হবে। এর ফলে নিশ্চিত হবে সরকারের রাজস্ব আদায়ও।

আদালত সূত্র জানায়, পারিপারিক আদালতে মূলত পাঁচটি বিষয়ের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইপারিবারিক কোর্টেও এ পাঁচ বিষয়ের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেগুলো হচ্ছেবিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাকত্ব ও হেফাজত।

আদালত সূত্র আরো জানায়, পারিবারিক কোর্ট নামের ওয়েবসাইটটি বাদী, বিবাদী, আইনজীবী, আদালতের সহায়ক কর্মচারী, বিচারক এবং সাধারণ জনগণ সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। আইনজীবীদের বার কাউন্সিল সার্টিফিকেট, ওকালতনামা এবং অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

পারিবারিক আদালত সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পুরো নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল যুক্ত করতে হবে। দিতে হবে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। নাঈমা জান্নাত নামের একজন আইনজীবী বলেন, পারিবারিক আদালতে আইনজীবী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছি। আইন মন্ত্রণালয়ের এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এখন অনলাইনে গিয়ে সব পারিবারিক মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিষয়ে ঘরে বসেই সেবা পাওয়া যাবে। ইপারিবারিক কোর্ট নামের ওয়েবসাইটে পারিবারিক সব বিষয়ে জানা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যাশা থাকবে জুডিশিয়ারির সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়ন হবে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে কয়েকটি পারিবারিক আদালত রয়েছে। এরমধ্যে একটিতে ইপারিবারিক কোর্ট চালু হচ্ছে উদ্বোধনের মাধ্যমে। এ কোর্টে আর ম্যানুয়ালি কার্যক্রম চলবে না। বাকী কোর্টগুলোতে ম্যানুয়ালি কার্যক্রম চলবে। তবে আগামীকাল (আজকে) এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির যুবকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজার পিলারে বাসের ধাক্কা, হেলপারের মৃত্যু